খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় আঙুর চাষ করে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০২:১১ পিএম
খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় আঙুর চাষ করে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

 ইচ্ছা শক্তি থাকলে সব কিছুই করা যায় তারই প্রমাণ করলেন মানিকছড়িতে ফোরকান ও দীঘিনালার সালাউদ্দিন। পাহাড়ের চূড়ায় বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন এই দুই উদ্যোক্তা। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট হওয়ায় ব্যতিক্রমধর্মী আঙুর বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এতে অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি এফ.এম এগ্রো-এ ব্যবস্থাপক মো. রাশেদ ইসলাম বলেন, গত বছরের শুরুতে জেলার মানিকছড়িতে ১৬০ শতক পাহাড়ে চায়না রেডরোজ, আর্লি সামার ব্ল্যাক, শাইন মাসকাট, সামার ব্লাক গ্রেপ ও কুইন-নিনাসহ অন্তত ২৩ জাতের আঙুরের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন এগ্রো ফার্মটির উদ্যোক্তা মো. ফোরকান। চলতি মৌসমে কম বেশি সবকটি জাতেই ভালো এসেছে। মাচায় মাচায় ঝুলছে সবুজ, কালো ও বেগুনি রঙসহ নানা জাতের আঙুর। ফল পাকতে শুরু করলেও এখনো শুরু হয়নি বিক্রি। তবে যেসব জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি এসেছে সেসব গাছে গ্রাফটিং ও রুট পদ্ধতিতে আঙুরের চারা তৈরি করে বানিজ্যিকভাবে চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যন্ত এই জনপদে গড়ে তোলা আঙুর বাগানটি একদিকে যেমন পাহাড়ের কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এতে করে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, মানিকছড়ির পাহাড়ে প্রথমবারের মতো বিদেশি জাতের আঙুর চাষ হয়েছে। ফলও খুবই ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত তার বাগান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি বিভাগ।

অন্য দিকে পাহাড়ে শখ থেকে শুরু করে সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মো. সালাউদ্দিন। ব্যতিক্রমী আঙুর চাষকে সম্ভাবনাময় কৃষিখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ভূইয়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী আঙুর বাগান। ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মো. সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ২০২৩ সালে ইউক্রেনের ‘বাইকোনুর’ জাতের মাত্র দুইটি চারা এক হাজার ৪০০ টাকায় কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ১৫ শতক জমিতে ৬০টিরও বেশি জাতের প্রায় ১৭০টি গাছ নিয়ে গড়ে উঠেছে তার বাগান। তার বাগানে রয়েছে পিঙ্ক, বাইকিং, গ্লোরি, ডিক্সন, দাসোনিয়া ও মেডরো ব্ল্যাক জাতের আঙুর। এছাড়াও রয়েছে চীনের চ্যাং ফিঙ্গার এবং মালয়েশিয়ার গ্রীন লং জাত।

শুধু ফল উৎপাদন নয়, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে অনলাইনে বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তিনি। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মৌসুমে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার চারা বিক্রি করেন, যার প্রতিটির মূল্য ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা। তার স্বপ্ন ও লক্ষ্য দেশের মানুষের মাঝে আঙ্গুর চাষ ছড়িয়ে দেওয়া এবং এটিকে সম্ভাবনাময় কৃষিখাতে রূপ দেওয়া। মো. সালাউদ্দিনের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে আঙুর চাষের স্বপ্ন দেখছেন।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।