পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের (পিওকে) মুজাফফরাবাদের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) সকালে উড্ডয়নের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান আর্মি এভিয়েশনের এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটি মুজাফফরাবাদের নিকটবর্তী এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির সম্মুখীন হয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সব কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং কোনো আরোহী জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তবে হেলিকপ্টারটিতে ঠিক কতজন সামরিক সদস্য ছিলেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত আহত ও নিহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ও ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনির। এক শোকবার্তায় তিনি নিহত সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এছাড়া পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পৃথক বার্তায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গিলগিট-বালতিস্তানের দিয়ামের জেলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হলে পাঁচ সেনাসদস্য নিহত হন। একই বছরের আগস্টে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একটি সরকারি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়ে, যাতে পাইলটসহ পাঁচজন প্রাণ হারান।
সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানের সামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আইএসপিআর, এপি, রয়টার্স।








