ষড়যন্ত্রমূলক প্রশ্নবোধক মামলায় যশোর জিলা স্কুলের চার ছাত্রের শিক্ষাজীবন ধ্বংসের পথে
মালিকুজ্জামান কাকা :
যশোর জিলা স্কুলের চার ছাত্র ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা হয়রানি মামলায় ফেঁসেছে। ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় মেধাবী চার ছাত্রের লেখাপড়া এখন ধ্বংসের পথে।
গোপনে তড়িঘড়ি মামলা রেকর্ড, তদন্তকারী পুলিশ কর্তা ও বাদীর যোগাসাজোসে এই ছাত্র এস এস সির আগে দশম শ্রেণীর টেস্ট পরীক্ষায় দুটি পরীক্ষা দিতে পারেনি। দুই ছাত্রকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ছেড়ে দেবে বলে টাকা উৎকোচ নিয়েও মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে। আরো রহস্যময় বিষয় এই মূল অভিযুক্তকে মামলায় আসামি করা হয়নি। ঐ চার ছাত্রের বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকার গহনা চুরি ও নগদ ২১ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদি মোঃ সাইদুজ্জামান যশোর শহরের শঙ্করপুর চোপদারপাড়ার মৃত আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি রেলওয়ে যশোরের স্টেশন মাস্টার। আসামিরা সকলেই তার ছেলে ইরফান জামান রোহানের বন্ধু সহপাঠী। মামলা নম্বর ০৬ তারিখ ০৩/০৭/২০২৬, জি আর ৫৫৫/২৬। ধারা ৩৮০। ধৃত দুই ছাত্র কে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র ) মোঃ আনিছুর রহমান খান (বি পি ৯০১৭২০১৫১৩)।
মামলায় ঘটনার তারিখ চলতি বছরের ২৫ মার্চ। এই মামলার স্বাক্ষী দুই জন তাসবীর আহমেদ ও মুজাহিদ। গহনা ক্রয় রশিদ বা তার ফটোকপি জমা নেই বলে জানা গেছে। তবে মূল অভিযুক্ত বাদির ছেলে ইরফান জামান রোহানকে মামলায় আসামি বা স্বাক্ষী না করায় মামলাটি যথেষ্ট প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ১৭ জুলাই মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ১৮ জুলাই এ নিয়ে যশোর শহর ও শহরতলিতে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন তদন্তছাড়াই মামলা রেকর্ড করে তাদের কাছ থেকে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা একদিকে ঘুষ চাইছেন প্রকাশ্যে। অন্যদিকে বাদির পক্ষে চুরি প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জোর চেষ্টা চলছে।
আসামি জিলা স্কুলের চার ছাত্রের দুই জনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড়ি থেকে ডেকে এনে চালান দিয়েছে। এরা হচ্ছে মামলার এক নম্বর আসামি ষষ্ঠীতলা পিটিআই রোড আর আর এফ অফিসের পিছনে রফিক মৌরির ছেলে ইমরান, চার নম্বর আসামি ধর্মতলা দেলোয়ার হোসেন খাকনের বাড়ির পাশের মিন্টুর ছেলে হাবিবুর রহমান। অন্য দুই আসামি হচ্ছে ২) পুলেরহাট ব্রিজের পাশের মাকসুদূর রহমানের ছেলে পিয়াস ও ৩) বাহাদুরপুরের আজিজুলের ছেলে আদিত্য। দুই জন কে অভিভাবকসহ পুলিশকর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র ) মোঃ আনিছুর রহমান খান ডেকে আনেন। তাদের অভিভাবকের কাছ থেকে ছেড়ে দিয়ে পরীক্ষা দিতে দেবেন বলে টাকা ঘুষ নেন কিন্তু না ছেড়ে বা স্কুল কতৃপক্ষকে না জানিয়ে মামলায় চালান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান তাদের ছেলেরা ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রসহ দুটি পরীক্ষা দিতে পারেনি। দারোগা দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্কুল কতৃপক্ষকে জানাতে পারেননি। তবে তিনি একজন অভিভাবকের কাছে দেড় লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছেন। ফলে ঐ অভিভাবক ও তার স্ত্রী টেনশনে বর্তমানে অসুস্থহয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে। আরেক জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছেড়ে দেবে বলে ২৪ হাজার টাকা নেয় ঐ পুলিশ কর্তা। তাকেও চালান দেওয়া হয়েছে।
যশোর জিলা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। স্কুল সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় এই জেলা প্রশাসন কর্তা বা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কতোয়ালি মডেল থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আনিছুর রহমান খান থানার বাইরে রয়েছেন।
অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন তাদের সন্তানদের কৌশলে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এখন চাপ দিয়ে দোষী করানোর অপচেষ্টায় পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদতে তাদের ছেলেরা ইরফানের সাথে একই স্কুলে লেখাপড়া করে। রিমান্ডে এনে মারপিট করে ভয় দেখিয়ে চুরির অভিযোগ সত্য করার পরিকল্পনায় মামলার বাদি ও তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা। এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রশ্নবোধক মামলা বলে অভিযুক্তদের অভিভাবকগণ মতামত দিয়েছেন। মামলায় নিযুক্ত আইনজীবী সেই একই মতামত ব্যাক্ত করেন।









