বিক্রিত জমি নিয়ে অপপ্রচার, হয়রানির প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
বিক্রিত জমি নিয়ে অপপ্রচার, হয়রানির প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

মালিকুজ্জামান কাকা :

যশোর শহরের আরবপুরে হায়ওয়ে সংলগ্ন ২৩.৮৬ শতক বিক্রিত জমি নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানি করছে হবি সর্দারের দুই ছেলে ও তাদের সহযোগীরা। এর প্রতিবাদে ৮ জুন দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক স্থলবন্দর বেনাপোলের দুই ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা। 

সোমবার দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমি মালিক । এর আগে গত ৬ জুন সায়াদ হোসেনের করা সংবাদ সম্মেলনের জবাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ক্রেতাপক্ষের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিয়ামুজ্জামান।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জমির মূল মালিক মরহুম আব্দুস সালাম সরদার ওরফে হবি সরদারকে তাঁর বড় ছেলে কামাল, ছোট ছেলে সায়াদ, ছোট ছেলের স্ত্রী জয়া এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শাহিদা খাতুনের সহযোগিতায় বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকায় মেয়ে ফাহমিদা কামার সুপ্তির বাসায় নিয়ে যায়। এরপর থেকেই হবি সরদার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় হবি সরদার বাদী হয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, হবি সরদার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে তিনি তাঁর একমাত্র কন্যা ও জামাতার উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ক্রেতাপক্ষের কাছে ২৩.৮৬ শতক জমি বিক্রি করেন। টাকা উত্তোলনের সময় মরহুমের স্ত্রী ও এক ছেলেও সাক্ষী ছিলেন। জমি বিক্রির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ক্রেতারা নিয়ম মেনে জমির নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করেন এবং খাজনা পরিশোধ করে বাউন্ডারি নির্মাণের মাধ্যমে ভোগদখলে ছিলেন। জমির একটি অংশ লেদ কারখানার জন্য ভাড়াও দেওয়া হয়। তবে সায়াদ হোসেন ও তাঁর লোকজন ওই জমি দখলের চেষ্টা চালান এবং বাউন্ডারি ও কারখানার বিভিন্ন মালামালের ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের সব অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে ক্রয়কৃত জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ, অপপ্রচার রোধ এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনাসহ সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হবি সরদারের ছেলে সায়াদ হোসেন দাবি করেছিলেন, তাঁর পিতার মৃত্যুর পর আসাদুজ্জামান, বাবলু তালুকদার, আনিসুর রহমান, ইয়াসিন এবং এ কে এম আতিকুজ্জামান ছানিসহ একটি চক্র বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হলে আদালত সংশ্লিষ্ট জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। প্রতিপক্ষ একটি সন্দেহজনক দলিল দেখিয়ে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া বাবলু তালুকদার দীর্ঘদিন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার পর ভাড়া প্রদান বন্ধ করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।