পানি চেয়েও রক্ষা মেলেনি, চট্টগ্রামে ‘চোর’ সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরে চুরির অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. জয়নাল (২৭)। তাঁর পরিবারের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে জয়নালকে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নিহতের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং লাশ বহনে বাধা দেন। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা, নিহতের স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকালে রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের পেছনের জানালার গ্লাস খুলে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে কম্পিউটার চুরির চেষ্টা করছিলেন জয়নাল। এ সময় বিদ্যালয়ের দুই প্রহরী আজাদ ও সমীর দাশ তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই জয়নালকে মারধর করা শুরু হয়। একপর্যায়ে খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজনও ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
উপস্থিত কয়েকজনের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ফেলে রাখা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মারধরের সময় জয়নাল বারবার পানি চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে পানি দেওয়া হয়নি। বরং মারধর অব্যাহত রাখা হয়। পরিবারের আরও অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে এসে নিহতের মা ছেনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে দোষ করলে তার বিচার হতো। এভাবে মেরে ফেলতে পারে না। আমার ছেলেকে মারধরের একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
জয়নালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও পরিচিতজনেরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে গেলে স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লাশ বহনে বাধা দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, ‘স্কুলে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক যুবক। পরে তাঁকে মারধর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার সন্দেহে বিদ্যালয়ের দুই প্রহরী আজাদ ও সমীর দাশকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।’
বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলেও তাঁকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা উচিত ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









