পানছড়িতে ব্রাশফায়ারে ৩ জেএসএস সদস্যকে হত্যা

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
পানছড়িতে ব্রাশফায়ারে ৩ জেএসএস সদস্যকে হত্যা

বিপ্লব তালুকদার,  খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

  আবারো রক্তের হলিখেলায় রক্তাক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম। খাগড়াছড়ির পানছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর ৩ সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পানছড়ির চেঙ্গি ইউনিয়নের মধু মঙ্গলপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলেই ব্রাশ ফায়ার করলে জেএসএস-এর ৩ কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ ঘটনায় আরো ২ জনকে অস্রধারীরা ধরে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনাকে জেএসএসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড বলে দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চলমান রয়েছে

বিষয়টি নিশ্চিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার সাথে কথা হলে তিনি কর্মী হত্যা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান জেএসএস এমন কোন ঘটনার জানেন না। তিনি একই সাথে কোন পক্ষের সাথে গোলাগুলির বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

পানছড়ি থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ওসি মো: ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ-জেএসএস দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

অন্য একটি সূত্রের দাবী, নিহতরা নির্বানপুর কুঠিরে গিয়ে ‘শ্রমণ’ (বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়ার দীক্ষার্থী) হন। তারা ধর্মীয় রংবস্ত্র পরিত্যাগ করে গোপনে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে জেএসএস নেতা প্রতুত্তর চাকমার নির্দেশে মধুমঙ্গলপাড়ায় তাদের টমটম আটকে হত্যা করা হয়। আরো দু’জনকে অস্ত্রধারীরা তুলে নিয়ে গেছে বলে জানা যায়।

এদিকে- পানছড়িতে তিন জেএসএস কর্মীকে ব্রাশফায়ার করে হত্যার ঘটনায় বিষয়ে ইউপিডিএফ এর সংগঠক অংগ্য মারমা জানান, ইউপিডিএফের সাথে কোন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। এটি জেএসএস এর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নিজ কর্মীকে হত্যাকান্ড। এটির সাথে ইউপিডিএফর কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবী করেন।

পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফ এর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পানছড়িসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের ঘটনা চলমান রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারের জেরে পাহাড়ের বর্তমানে গোলাগুলি,হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্রের লড়াই নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।