জামাই-শাশুড়ির অবৈধ সম্পর্কের জেরে কপাল পুড়লো মেয়ের
মোঃ আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা হিন্দু ধর্মাবলম্বী আশীশ ও তার শাশুড়ি সুমি শীলের মধ্যেকার অবৈধ সম্পর্কের বলি হলো আশীশের স্ত্রী রুমি রাণী।
শাশুড়ি ও জামাইয়ের পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করেছে আশীশ ও তার শাশুড়ি। আশীশের স্ত্রী রুমি বলেন, "বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আমার স্বামীর অনেক কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হয়। আমার মায়ের সাথে তার স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না। সিজার করে মেয়ে হওয়ার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আর তখন থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হতে শুরু করে।...আমার বাবার সাথে ছাড়াছাড়ির পর মা ফরিদপুরে মামাদের সাথে থাকেন। তারাই আশীশের সাথে আমার বিয়ে দেন। আমার অসুস্থতার সময় মা আমাকে ফরিদপুর নিয়ে গেলে সেখান থেকেই মূল ঘটনা আমি জানতে পারি। এসময় আমি প্রায় রাতেই তাদের অবৈধ কাজ সচক্ষে দেখেও, নিজের ছোট্ট মেয়ে ও সংসার বাঁচাতে বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি। পরবর্তীতে, আমার স্বামী আশীশের ভবানীপুরের বাড়িতে আসলে ঘটনা আরও জটিল হয়। আমার মা এসময় নিয়মিত আমার বাড়িতে আসতো। আশীশ আমাকে ঘুমের বড়ি খাইয়ে তার সাথে মিশতো। সর্বশেষ, তারা আমাকে মেরে ফেলে ভারতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আমি আমার বাবার সাথে যোগাযোগ করি। কিন্তু, বিষয়টি আশীশ ও আমার মা টের পেয়ে যায়। আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে চলে আসার আগের রাতে আশীশ বালিশ চাপা দিয়ে আমাকে মেরে ফেলতে যায়। এসময় সে আমাকে নির্মমভাবে নির্যাতনও করে। পরবর্তীতে, গুরুতর আহত অবস্থায় আমি আমার বাবার সহযোগিতায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।"
এদিকে, এই জঘন্যতম ঘটনার বিষয়ে আশীশ দায় স্বীকার করলেও, তার শাশুড়ি ও মামা শ্বশুরের দৌরাত্ম্যে সবকিছু উপেক্ষা করে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী রুমি রাণী ও তার বাবা ফারুক প্রথমে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে কোন প্রতিকার না পেয়ে, লিগাল এইডে মামলা করেন। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, এত বড় জঘন্য অপরাধেও আশীশকে পুলিশ গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলেও, একদিনের মাথায় সে জামিন পেয়ে যায়।
এ নিয়ে ভুক্তভোগী রুমি রাণী ভয়ে-ভয়ে দিন পার করছে।
নিজের স্ত্রী সুমি শীল সম্পর্কে রুমি রানীর বাবা সুকুমার শীল বলেন, "আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সময়ও সে নানা রকম কুকর্মে লিপ্ত ছিল। কিন্তু, জামাইয়ের সাথেও এমন কুকর্ম করবে এটি ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভবানীপুর নিবাসী আশীশ পেশায় একজন নরসুন্দর। এর আগে সে তার সৎ মায়ের সাথেও এমন কুকর্মে জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশীশ ও তার সৎ মায়ের কুকীর্তির কারণেই আশীশের প্রথম স্ত্রী তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর সে রুমিকে বিয়ে করে। কিন্তু, সেই রুমি রানীরও কপাল পুড়লো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে। এদিকে, একমাত্র কন্যা সন্তান আনিকাকেও ওরা কেড়ে নিয়েছে বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রুমি রানী। তিনি বলেন, "আমি আশীশ ও আমার মায়ের শাস্তি চাই। আর যেন কেউ এমন কুকর্মে লিপ্ত হতে না পারে।"
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আশীশ ও তার শাশুড়ি সুমি শীল নতুন করে ঘর বাঁধার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়ার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছে।









