‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’: প্রথমবার নোয়াখালীর মিথ–ফ্যান্টাসি নিয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে অসংখ্য নাটক নির্মিত হলেও এবারই প্রথম তৈরি হলো নোয়াখালীর মিথ, লোককথা ও ফ্যান্টাসিকে উপজীব্য করে দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক। অরণ্য আনোয়ারের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত বিশেষ টিভি সিরিজ ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ আজ ১৫ নভেম্বর থেকে সপ্তাহে চার দিন প্রচার শুরু করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি
নাটকটির প্রচার উপলক্ষে শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার, অভিনেতা সুজাত শিমুল, আমিন আজাদসহ নাটকের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকে।
এ সময় ধারাবাহিকটির ধারণা, গল্প, চরিত্র এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।
মিথ ও লোককথাকে বাস্তবতায় রূপ
নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার জানান, নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে প্রচলিত বহু দিনের লোককাহিনি ও মিথই এই নাটকের মূল উপজীব্য।
তিনি বলেন—
“চাঁদে নোয়াখালীর বুড়ির বাস, নোয়াখালী স্বাধীন দেশ হলে ইউরোপের মতো সমৃদ্ধ হতো—এ ধরনের বহু লোককথা আমরা শুনে আসছি। এসব কল্পনার গল্পই ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’-এ বাস্তব রূপ নিয়েছে।”
ধারাবাহিকে দেখা যাবে এক বিশেষ নভোযান, যার নাম ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’। বৃহত্তর নোয়াখালীর ঐতিহাসিক বিস্তার, আশপাশের জেলা—চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ভোলা এবং ভারতের ত্রিপুরা পর্যন্ত নোয়াখালী মানুষের সম্পৃক্ততার নানা কাহিনি নাটকে স্থান পেয়েছে।
৬ বছর পর অরণ্য আনোয়ারের প্রত্যাবর্তন
এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচালক ও নাট্যকার অরণ্য আনোয়ার ছয় বছর পর টিভি সিরিজে ফিরছেন। সর্বশেষ তার পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ছিল ‘ফুল এইচ ডি’, যা ২০১৯ সালে ৩১২ পর্ব ধরে প্রচারিত হয়েছিল।
নতুন মুখের সমন্বয়ে বড় আয়োজন
পুবাইল, গাজীপুর এবং নোয়াখালীর বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে ধারাবাহিকটি চিত্রায়িত হয়েছে। অভিনয়ে রয়েছেন—
সুজাত শিমুল, আশরাফুল আলম সোহাগ, আশরাফ সুপ্ত, সাদ্দাম মাল, আমিন আজাদ, রেশমা আহমেদ, ফারজানা মিহি, সুমাইয়া অর্পা, রেজমিন সেতু, তাবাসসুম মিথিলা, অধরা নিহারিকা, হীরামনি, ফারিয়া, জান্নাত রুপু, শেহজাদ ওমর, তনয় বিশ্বাস প্রমুখ একঝাঁক তরুণ অভিনয়শিল্পী।
নোয়াখালী সংস্কৃতির সৃজনশীল উপস্থাপন
‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ শুধু একটি ধারাবাহিক নয়—নোয়াখালী অঞ্চল, ভাষা, মানুষের বিশ্বাস, রসবোধ ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচলিত গল্পগুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরার এক সৃজনশীল প্রয়াস। নাটকটি দর্শকদের একদিকে যেমন বিনোদন দেবে, অন্যদিকে নোয়াখালীর ঐতিহ্যকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেবে বলে নির্মাতার প্রত্যাশা।









