‘দেশি মুরগি খেতে পারি না’ মন্তব্যে ভাইরাল শিক্ষিকা শাহিনুরের রয়েছে ৫ তলা বাড়ি

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:১০ পিএম
‘দেশি মুরগি খেতে পারি না’ মন্তব্যে ভাইরাল শিক্ষিকা শাহিনুরের রয়েছে ৫ তলা বাড়ি

বিস্তারিত প্রতিবেদন:

শিক্ষকদের আন্দোলনে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে সারা দেশে আলোচনায় এসেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার শ্যামলী। আন্দোলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন,

> “বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য ২০ বছর আগে একটি ফার্মের মুরগি কিনেছিলাম। আমরা শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। একটি দেশি মুরগি কেনার সামর্থ্য আমাদের থাকে না। সেই ফার্মের মুরগির গন্ধ নাকে এখনো আমাদের বয়ে বেড়াতে হয়। আমি একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা হয়ে আজও একটি দেশি মুরগি কিনে খাইতে পারিনি।”

রাজধানী ঢাকায় শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও মর্যাদা সংশোধনের দাবিতে আয়োজিত আন্দোলনে এই বক্তব্য দেন তিনি। মুহূর্তেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার কথায় আবেগাপ্লুত অনেক শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ সমবেদনা জানালেও, অন্যদিকে তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা ও বিতর্ক।

সচ্ছল জীবনের তথ্য প্রকাশ:

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহিনুর আক্তারের পরিবার মোটেও অস্বচ্ছল নয়। তার বড় ভাই সালাউদ্দিন মোল্লা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। ছোট বোন সোহেলি চট্টগ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। নিজ এলাকায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে তার একটি একতলা বাড়ি রয়েছে।

এছাড়া হাজীগঞ্জ বাজারের ডিগ্রি কলেজ রোডে ‘আরাম কটেজ’-এর পাশে একটি পাঁচতলা ভবনের মালিক তিনি ও তার বোন। পাশাপাশি শিক্ষকতার বাইরে একটি বিউটি পার্লারও পরিচালনা করেন শাহিনুর আক্তার। তার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লার বড়ুয়ায়, যেখানে তার স্বামী একজন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ব্যক্তিগত জীবন:

শাহিনুর আক্তার দুই সন্তানের জননী। বড় মেয়ে ঢাকায় একটি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছেন এবং ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

সমালোচনার জবাবে শাহিনুর আক্তারের ব্যাখ্যা:

সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে তিনি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,

> “আমি ব্যক্তি শাহিনুর হিসেবে কিছু বলিনি। আমি একজন শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষকদের সীমাবদ্ধতা, কষ্ট আর বঞ্চনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলাম। ‘দেশি মুরগি খেতে পারি না’—এই কথা দিয়ে আমি সব শিক্ষকের অবস্থার প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছি, নিজের পারিবারিক অবস্থা বোঝাতে নয়।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে নানা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। তাদের জীবনের কষ্ট বোঝাতে প্রতীকীভাবে তিনি এমন উদাহরণ ব্যবহার করেছেন।

শাহিনুর আক্তার শ্যামলীর বক্তব্যে দেশের শিক্ষক সমাজের বঞ্চনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তার আর্থিক অবস্থান ঘিরে উঠা বিতর্কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো থামেনি। অনেকেই মনে করছেন, তার বক্তব্যের পেছনে নিহিত বার্তাই আসল—শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।