১২ লাখ টাকার চুক্তিতে পরিকল্পিত খুন, রেজভীর জবানবন্দিতে উঠে এলো লোমহর্ষক বর্ণনা
ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি রেজভি আহমেদ ফরহাদের দেয়া এক জবানবন্দি। ১৯৯৭ সালে ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া এই জবানবন্দিতে তিনি সালমান শাহকে হত্যার নেপথ্যের নৃশংস ও পরিকল্পিত ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর আগে দেয়া এই জবানবন্দিতে রেজভী স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। পরে এ হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়। এ ঘটনায় সামিরা ও তার পরিবারসহ আরও অনেকে জড়িত।”
১২ লাখ টাকায় চুক্তি
রেজভী জানান, ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়। এ চুক্তির মূল উদ্যোগ নেন সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। তিনি ছিলেন পুরো পরিকল্পনার মূল নেপথ্য চরিত্র। এ চুক্তিতে আরও ছিলেন চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ।
রেজভীর ভাষ্যে, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গুলিস্তানের একটি বারে বসে হয় হত্যার পরিকল্পনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ, সাজু, ছাত্তারসহ আরও অনেকে।
সেই বৈঠকে প্রথমে ২ লাখ টাকা দেয়া হয়, জানানো হয়—বাকি ১০ লাখ টাকা কাজ শেষের পর। ফারুকের প্রস্তাব অনুযায়ী, “কাজের আগে ৬ লাখ, কাজের পরে ৬ লাখ” চূড়ান্ত হয়। পরবর্তীতে হত্যার জন্য ব্যবহৃত হয় প্লাস্টিকের দড়ি, সিরিঞ্জ, ক্লোরোফর্ম ও রিভলবার।
ঘুমন্ত সালমানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া
রেজভীর জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় ডন, ডেভিড, ফারুক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই সালমান শাহর বাসায় প্রবেশ করেন।
ঘুমন্ত সালমান শাহকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করেন তার স্ত্রী সামিরা। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে ধস্তাধস্তির সময় আজিজ মোহাম্মদ ভাই সালমানের শরীরে ইনজেকশন পুশ করার নির্দেশ দেন। এরপরই সালমান শাহর মৃত্যু হয়।
আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়
রেজভী আরও জানান, হত্যার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী সালমান শাহর মরদেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়।
পুরো ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সামিরা, তার মা লতিফা হক লুসি এবং আত্মীয়া রুবি।
মামলার আসামি ১১ জন
সালমান শাহ হত্যা মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য আসামিরা হলেন—প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, সালমানের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
২৮ বছরেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি
জনপ্রিয় এই নায়কের মৃত্যু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঘটে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবার ও ভক্তরা দাবি করে আসছেন—এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা।
২৮ বছর পার হলেও এখনও মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।









