সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ও নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি বিএফইউজের

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০১ পিএম
সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ও নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি বিএফইউজের

ডেস্ক রিপোর্ট: 

সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন নির্ধারণ, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এসব দাবি জানানো হয়।

সভায় বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সপ্তাহে দুই দিন ছুটি ভোগ করে, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অথচ সাংবাদিকদের কাজের নির্দিষ্ট সময় নেই এবং সাপ্তাহিক ছুটিও তারা পান না। এতে শারীরিক ও মানসিক চাপ বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে। তাই সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিনের ছুটি নিশ্চিত করা জরুরি।

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও কার্যত তা হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। তাই দ্রুত নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং সংবাদপত্র, অনলাইন, টেলিভিশন, রেডিও ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য অভিন্ন ওয়েজ বোর্ড করার দাবি জানানো হয়।

অন্য এক প্রস্তাবে বলা হয়, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে নানা ধরনের নিপীড়নমূলক আইন রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ৩২টি আইনের ফাঁদে সাংবাদিকরা পড়ে আত্মসেন্সরশিপে বাধ্য হচ্ছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের এক বছর পরও এসব কালো আইন বাতিল না হওয়ায় সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার জন্য মামলা একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী আইনগুলো চিহ্নিত করে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

এছাড়া, সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা নীতিমালায় চাকরির নিরাপত্তা বিষয়টি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলেও সভায় অভিযোগ করা হয়। বক্তারা বলেন, অধিকাংশ গণমাধ্যম সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন দেয় না, নিয়োগপত্র দেয় না, ছয় মাস পর চাকরি স্থায়ী করার নিয়ম মানা হয় না, চাকরি শেষে দেনাপাওনা পরিশোধ করা হয় না। ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের অনেক ক্ষেত্রে বেতন দেওয়া হয় না, কোথাও ২-৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়, আবার কোনো টিভি জেলা প্রতিনিধির কাছ থেকে উল্টো টাকা নেওয়া হয়। এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবি জানান তারা।

সভায় আরও বলা হয়, ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে সাংবাদিকদের শারীরিক ক্ষতি বা যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দুর্ঘটনা বিমা, চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, দুর্ঘটনা ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, জীবন বীমা এবং আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। নারী সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও আলাদা রেস্টরুমের ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, একেএম মোহসীন, সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল, ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, এহতেশামুল হক শাওন, কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, দপ্তর সম্পাদক মো. আবু বকর, প্রচার সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজুসহ দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।