রাজশাহীর পদ্মায় কুমির দেখা! প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম
রাজশাহীর পদ্মায় কুমির দেখা! প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে আবারও কুমিরের দেখা মিলেছে। নদীর ষাটবিঘা চরে একাধিক কুমির ঘোরাফেরা করছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ অবস্থায় এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে নদীতে গোসল, মাছ ধরা ও ছোট নৌকা চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

সম্প্রতি আলোকচিত্রী দম্পতি ইমরুল কায়েস ও উম্মে খাদিজা ইভা পদ্মা নদীর ষাটবিঘা চরে ছবি তুলতে গিয়ে একটি প্রাপ্তবয়স্ক কুমিরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ড্রোনে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, কুমিরটি নদীর পাড়ে রোদ পোহাচ্ছে। স্থানীয় জেলেরা আরও কয়েকটি ছোট কুমির দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে বিলুপ্ত ঘোষিত এই মিঠাপানির কুমিরটি পুনরায় দেখা মেলায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাণিবিজ্ঞান সংস্থা (আইইউসিএন)-এর মুখ্য গবেষক এ বি এম সারোয়ার আলম জানান, “২০১৫ সালে মিঠাপানির কুমিরকে বাংলাদেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। রাজশাহীর পদ্মায় দেখা পাওয়া কুমিরটি সম্ভবত ভারতের চাম্বুল নদ এলাকা থেকে এসেছে।”

রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “স্থানীয় জেলেরা একাধিক কুমির দেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, পদ্মায় কুমিরের সংখ্যা একটির বেশি। আমরা জনগণকে সতর্ক করছি যেন কেউ নদীতে গোসল বা মাছ ধরতে না যায় এবং কুমিরগুলোকে কোনোভাবে বিরক্ত না করে।”

বিভাগটি ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছে। লিফলেটে বলা হয়েছে, কুমির হিংস্র হলেও তারা জলজ বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কুমির দেখলে বিরক্ত না করা, নদীতে গোসল না করা, শিশুদের নদীর ধারে না পাঠানো, ছোট নৌকা চলাচল বন্ধ রাখা এবং রোদ পোহানো কুমিরের দিকে ঢিল না ছোড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া লিফলেটে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২’-এর আওতায় কুমিরকে বিরক্ত করা, ধরা, হত্যা করা বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও প্রকৃতিপ্রেমীরা চান, কুমিরটি যেন নদীতেই নিরাপদে থাকে এবং প্রজননের সুযোগ পায়। আলোকচিত্রী ইমরুল কায়েস বলেন, “আমরা চাই কুমিরটি মুক্ত থাকুক, যাতে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা হয়।”