মোহনপুরে শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কাটার ভিডিও ভাইরাল, কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেফতার

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০১ পিএম
মোহনপুরে শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কাটার ভিডিও ভাইরাল, কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেফতার

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর মোহনপুরে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে কেক কাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভিডিওর সূত্র ধরে মৌগাছি কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু এটি কি শুধুই একটি জন্মদিন উদযাপন, নাকি নির্বাচনের আগে গোপন রাজনৈতিক কৌশল—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় মহলে।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাকশিমইল ইউনিয়নের খাড়ইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রায় ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হয়ে কেক কাটা ও বৈঠকের আয়োজন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। পরে কেক কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত তা ভাইরাল হয়। ভিডিওর সূত্র ধরে পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে এবং মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এর আগেও গত বছর একই দিনে একই স্থানে শেখ হাসিনার জন্মদিনে একই ধরনের আয়োজন হয়েছিল বেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে। ফলে এবারের ঘটনাকে অনেকে কেবল জন্মদিন উদযাপন নয় বরং নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সক্রিয় করার একটি কৌশল হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে রাতে গোপন বৈঠক ও কেক কাটার আয়োজন নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণার আভাস দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মোহনপুর থানার এসআই আতাউর রহমান বলেন, “আমরা তথ্য পেয়েছিলাম যে সেখানে উসকানিমূলক বৈঠক হতে পারে। ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত সবাই পালিয়ে যায়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমরা শনাক্ত করে মামলা করেছি।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, কেবল কেক কাটার মতো একটি বিষয়কে মামলার পর্যায়ে নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক চাপে পড়ার ইঙ্গিতও দিতে পারে।

মোহনপুর উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। আওয়ামী লীগের ভেতরে যেমন ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে, তেমনি বিএনপি ও অন্যান্য দলের সঙ্গে দ্বন্দ্বও বাড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ছোট ইস্যুতে মামলা ও গ্রেফতার আসলে নির্বাচন-পূর্ব উত্তেজনা আরও ঘনীভূত করবে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ এটিকে ‘অতিরিক্ত রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা’ বলেছেন, আবার কেউ মনে করছেন, গোপন বৈঠক ও জন্মদিন উদযাপন আসলে নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনেরই একটি উপায়।