মাত্র ২০ টাকা নিয়ে তর্কে মাদ্রাসাছাত্র খুন: বন্ধুর স্বীকারোক্তি
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
মাত্র ২০ টাকা ধার চাওয়া নিয়ে তর্কের জেরে বন্ধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে অপর এক মাদ্রাসাছাত্র। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। নিখোঁজের এক দিন পর মাদ্রাসার পাশে একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় ১৩ বছরের ছাত্র আমির হামজার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে ১৬ বছর বয়সী ফরহাদ রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান।
যেভাবে খুন হলো বন্ধু:
নিহত আমির হামজা (১৩) আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা গ্রামের সায়েমউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে এবং গ্রেপ্তার ফরহাদ রেজা (১৬) চর চান্দড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। তারা দুজনেই একই মাদ্রাসার একই ক্লাসের ছাত্র এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ নিয়মিতই আমিরের কাছ থেকে টাকা ধার নিত। সর্বশেষ ৫০ টাকার মধ্যে ৩০ টাকা ফেরত দিয়েছিল। বাকি ২০ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও গালিগালাজের ঘটনা ঘটে।
এ সময় রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে ফরহাদ আমিরকে মাদ্রাসার পাশের বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
রহস্য উদ্ঘাটন ও আলামত উদ্ধার:
গত ১৯ অক্টোবর থেকে আমির হামজা নিখোঁজ ছিল। পরদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়রা মাদ্রাসার পাশে একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম জানান, প্রথমে এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য চারটি আলাদা টিম গঠন করা হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি কাঁথা হত্যাকারীর হিসেবে ফরহাদের দিকে ইঙ্গিত দেয়। সেই সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ স্বীকার করেছে, হত্যার পর সন্ধ্যায় সে মাদ্রাসায় হাজিরা দিয়ে একটি কাঁথা নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে যায়। পরে নিজের বাড়ি থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা এনে লাশ ঢুকিয়ে, ডুবে রাখার জন্য পাঁচটি ইট ভরে পুকুরে ফেলে দেয়।
মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
নিহত আমির হামজার বাবা সায়েমউদ্দিন বিশ্বাস বাদী হয়ে বুধবার রাতে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, ফরহাদ রেজা প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত ফরহাদকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ:
ঘটনার পর মাদ্রাসা এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









