ভোটে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বিকার ও যোগ্য কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দেবো: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম
ভোটে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বিকার ও যোগ্য কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দেবো: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, “নির্বাচন একটি যুদ্ধক্ষেত্র” এবং ভোটে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেরকম যোগ্য ও নিরপেক্ষ যোদ্ধাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে প্রশাসনে পদে–পরিবর্তন (রদবদল) বিষয়টি তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পুরো ক্ষমতা পাবেন। প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানান যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনের পূর্বে জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগসহ প্রশাসনের যাবতীয় রদবদল সরাসরি তার তত্ত্বাবধানে করা হবে। জেলা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক ‘ফিট লিস্ট’ থেকে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করে ভোটের আগে যথাস্থানে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতারা বৈঠকে বিশেষ করে বিতর্কিত সরকারি官 কর্মকর্তাদের — যারা আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সক্রিয় ছিলেন — ওই দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনে রদবদল ও নিয়োগে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার তাগিদও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বৈঠকে সরকারি দলের বিরোধী পক্ষের নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন, আগামী নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো ভূমিকা নিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠক শেষে বলেন, ‘নির্বাচনকে অর্থবহ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, সচিবালয় থেকে দলীয়-স্বার্থপর বা ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে খ্যাত ব্যক্তিদের সরিয়ে নিরপেক্ষ লোক নিয়োগ দিতে হবে; একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনে থাকা দলীয় লোকজনকেও সরাতে হবে। পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতিতেও নিরপেক্ষতার দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে বলা হয়েছে, ভোট শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে — প্রশাসনিক নিয়োগ থেকে শুরু করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিবেশ তৈরির সব পদক্ষেপ তদারকি করা হবে। প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ড. ইউনূসের এই কথাগুলো উদ্ধৃত করা হয়েছে।

বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পুনর্গঠন ও প্রশাসন থেকে দলীয় অনুকূলে থাকা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া দাবি রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি কুশলতাপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে; তবে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়নিষ্ঠা নির্ধারণ করবে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে।

নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশাসনিক রদবদল ও কর্মকর্তাদের নির্বাচনভিত্তিক বাছাই নিয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।