বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪১ এএম
বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। আগুনে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের কুরিয়ার গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের রাসায়নিক ও বন্ডেড পণ্যের গুদামগুলোতে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৬টি ইউনিট টানা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কুরিয়ারের পাশেই থাকা কেমিক্যাল গুদামে মোবাইলের এলডিসি, রাসায়নিক দ্রব্য, ওষুধের কাঁচামালসহ নানা দাহ্য পণ্য মজুত ছিল। এসব পণ্যই আগুনের ভয়াবহতা বাড়িয়ে দেয়।

ঢাকা কাস্টম হাউস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন কালবেলা বলেন,

> “কার্গো ভিলেজের এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় সব পুড়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট থেকে শুরু করে কেমিক্যাল, বন্ডেড কাঁচামাল—সবকিছুই ছাই হয়ে গেছে। অনেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানির জন্য বাড়তি খরচ দিয়ে এয়ার কার্গো ব্যবহার করেন। এসব পণ্যও রক্ষা পায়নি। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।”

ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্র ও শনিবার কাস্টম হাউস বন্ধ থাকায় এই দুই দিনে কার্গো ভিলেজে অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি পণ্য মজুত থাকে। অনেকেই বৃহস্পতিবার রাজস্ব পরিশোধ করলেও পণ্য খালাস নিতে পারেননি। ফলে পণ্য জমে থেকে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।

একজন ইলেকট্রনিক্স পণ্য আমদানিকারক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,

> “আমার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ৪৮৬ কার্টন ছিল, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই চালানের বিপরীতে ২০ লাখ টাকা শুল্ক-করও পরিশোধ করেছি। এক আগুনে সব শেষ হয়ে গেল।”

বিমানবন্দর ও কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ক্ষতির আনুষ্ঠানিক হিসাব করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার ব্যবসায়ী এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক ছোট আমদানিকারক প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

কার্গো ভিলেজে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি ও রপ্তানি পণ্য আসে। এর মধ্যে ওষুধের কাঁচামাল, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ, বন্ডেড পণ্য, কেমিক্যালসহ নানা উচ্চমূল্যের পণ্য থাকে। আকাশপথে পণ্য পরিবহনের খরচ সাগরপথের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় ক্ষতির প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাতের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।