বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ মাঠ সংস্কারে জোরালো দাবি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর
সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলারঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারুন্জা নমিজন আফতাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খেলাধুলার জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে, ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা তো দূরের কথা,হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে ওঠে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এলাকার যুবকরাও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই মাঠটিই ইউনিয়নের হারুঞ্জা বাইশটি গ্রামের একমাত্র খেলার জায়গা, তাই এর প্রতি নির্ভরশীল পুরো গ্রাম।
এমন অবস্থায় স্থানীয় শিক্ষার্থীরা গত ৩১ আগষ্ট কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর মাঠ সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়,বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। একমাত্র খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। মাঠটি অব্যবহৃত থাকায় এলাকার যুবসমাজ খেলাধুলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং তারা মাদকাসক্তি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। মাঠটি যদি দ্রুত সংস্কার করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থী ও তরুণরা সুস্থ বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ পাবে, যা তাদের জীবন গঠনে সহায়ক হবে।
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলেন,প্রতিদিন ক্লাস শেষে তারা খেলতে চাইলেও মাঠের বেহাল অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয় না। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা আক্তার বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও ঠিকমতো হয় না, পড়াশোনার পাশাপাশি যদি খেলাধুলার সুযোগ থাকতো তাহলে মনটা ভালো থাকতো।
স্থানীয় যুবক সাকিব আল হাসান জানান, মাঠটি উপযুক্ত থাকলে তারা সেখানে নিয়মিত খেলাধুলা করতেন। কিন্তু বর্তমানে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় খেলাধুলার পরিবর্তে অনেকেই অলস সময় পার করছে, কেউ কেউ নেশার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গ্রামবাসী নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে মাঠ সংস্কারের কিছু কাজ শুরু করলেও তা যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, মাঠ সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এলাকার প্রবীণ শহিদুল ইসলাম ও তোফাজ্জল হোসেন জানান, তারা ছোটবেলায় এই মাঠেই খেলাধুলা করে বড় হয়েছেন। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ। এখন সেটিই অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে,যা অত্যন্ত দুঃখজনক।তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত মাঠটি সংস্কার করে নতুন প্রজন্মের জন্য উপযোগী করে তোলা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি অনেক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মাঠের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের যাতায়াত সড়কটিও কাঁচা,বর্ষাকালে কাদা-মাটি মাড়িয়ে শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হয়।বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থাপন করা হবে এবং বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাঠটি সংস্কার করা হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটবে, কারণ তারা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারবে। এ মাঠে স্থানীয়রাও বিভিন্ন গ্রামীণ খেলায় অংশ নেয়। তাই এটি শুধু বিদ্যালয়ের মাঠ নয়, পুরো এলাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান জানান, মাঠ সংস্কারের জন্য একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং মাঠ সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









