বিজয়া দশমী বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে মহম্মদপুরের শারদীয় দুর্গোৎসব
এম এ রইচ, বিশেষ প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমী, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দূর্গোৎসব। পূজার নানা আচার-অনুষ্ঠান, ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঢাকঢোলের বেজে ওঠা আর আলো ঝলমলে সাজসজ্জার সমাপ্তি ঘটতে চলছে আজ।
১৭ আশ্বিন (২অক্টোবর) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ১০৮ টি পূজা মন্দির-মণ্ডপে এখন বিদায়ের আবেগ, দেবী দুর্গাকে কৈলাশে স্বামীর গৃহে ফিরে যাওয়ার প্রার্থনায় ভক্তরা মগ্ন।
এদিন সকালে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। নবমীর সকালে সম্পন্ন হয় মহাস্নান ও তর্পণ, ষোড়শ উপচারে পূজা, এবং দেবীকে নিবেদন করা হয় ১০৮টি নীলপদ্ম। এরপর যথারীতি ভক্তরা অঞ্জলি দেন এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, মূলত নবমীই পূজার শেষ দিন। নবমীর নিশীথেই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। এ কারণে নবমী শুধু আধ্যাত্মিকতা নয়, বিদায়ের বেদনায়ও ভরে ওঠে। সনাতন বিশ্বাস মতে, নবমী তিথিতে দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটান। এদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো সন্ধিপূজা—যা অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে ৪৮ মিনিটব্যাপী চলে। এ সময়ে দেবী চামুণ্ডার পূজা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই মুহূর্তেই মহিষাসুর বধ হয়েছিল এবং ভগবান রামচন্দ্র জয় করেছিলেন রাবণকে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী কানু তেওয়ারি বলেন, “দুর্গা মায়ের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। কৈলাশে ফিরে যাবেন মা দুর্গা। আবার আমাদের অপেক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের পূজার জন্য।” এবারের পূজা শান্তিপূর্ণভাবে, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এবং ভক্তদের অংশগ্রহণে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কারণে এ বছর সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন বলেও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন, পূজামণ্ডপগুলোতে দিয়েছেন কড়া নিরাপত্তা। মোট ২০৮টি মন্দির ও মণ্ডপে রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও বাড়তি টহল। এরমধ্যে বাবুখালি ইউনিয়নে- ২৬টি, দীঘা-১৬টি, রাজাপুর- ১৬টি, নহাটায়-১৪টি, পলাশবাড়ীয়া- ১২টি, বিনোদনপুরে-১২টি, মহম্মদপুর- ৯টি এবং বালিদিয়া ইউনিয়নে- ৩টি মন্দির ও মণ্ডপে মৃৎশিল্পীরা মনের মধ্যে লুকায়িত মাধুর্য দিয়ে অপরুপ সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছেন মা দূর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রুপ।
১৩ আশ্বিন (২৮ সেপ্টেম্বর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এদিন দেবী দুর্গার বোধন, অধিবাস ও আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটে গজে এবং গমন হবে দোলায়। যা শুভ ও সমৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। ঢাকঢোলের তালে, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনির সঙ্গে নদী, বাওড় ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন হবে। তবে বিদায়ের সুরের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে আগামী বছরের জন্য নতুন আশার আলো। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে দেবী দুর্গা আবারও ফিরে আসবেন মর্ত্যে, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে।
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, “উপজেলার ১০৮টি পূজা মন্ডপে নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং আমরা প্রতিটি মণ্ডপে নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর নেই। সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে বলেই আমরা আশাবাদী।”









