বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পোশাক চালু: ধাপে ধাপে রেঞ্জ ও মহানগরে বিতরণ শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পরিবর্তিত পোশাক আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। তবে আপাতত সর্বস্তরের সদস্যদের নয়—সীমিত পরিসরে রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশের নির্দিষ্ট ইউনিটে পোশাক বিতরণ শুরু হয়েছে। পূর্বের নীল ও সবুজ রঙের পরিবর্তে এবার নতুন একটি বিশেষ রঙে তৈরি ইউনিফর্ম পরবেন মাঠপর্যায়ের সদস্যরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-কমিশনার তালেবুর রহমান জানান, “আজ থেকে পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে। ধাপে ধাপে এটি সব সদস্যের কাছে পৌঁছানো হবে।”
এর আগে গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শুধু পোশাক নয়, পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে—পুলিশ, র্যাব ও আনসার তিন বাহিনীর জন্য তিনটি পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এটি বাস্তবায়ন হবে, একসঙ্গে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
৬–৭ কোটি টাকার ব্যয়
নতুন পোশাক বাস্তবায়নে তিন বাহিনীর জন্য মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহিনীর সদস্যদের আচরণ ও পেশাদারিত্বে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আনতে পারলে শুধুমাত্র পোশাক পরিবর্তন তেমন সুফল দেবে না। বরং সরকারের অর্থ এবং সময় ব্যয় বাড়বে।
তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও পুলিশের পোশাক একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন তেমন লক্ষ করা যায়নি। তাই বাহিনীর মনোভাব ও আচরণগত উন্নয়ন ছাড়া বাহ্যিক রূপান্তর ফলপ্রসূ নাও হতে পারে।
পটভূমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান
গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবর্ষণ, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এর পরই দেশজুড়ে পুলিশ বাহিনীর ব্যাপক সংস্কার, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবি উচ্চস্বরে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে।
আগামীর প্রত্যাশা
পোশাক পরিবর্তনের ফলে বাহিনীর ভাবমূর্তি ও কাজের পেশাদারিত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশা করছে সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মনমানসিকতার পরিবর্তন, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব আচরণ ছাড়া শুধু বাহ্যিক সাজসজ্জা দিয়ে আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।









