পাহাড়ে সম্ভাবনাময় বাঁশের পণ্য তৈরি করে ভাগ্য ফেরালেন অসীম
বিপ্লব তালুকদার, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
ঝাড়বাতি থেকে শুরু করে ল্যাম্পশেড; বাঁশ দিয়ে তৈরি হয় সবই। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় খুব দ্রুত এ ধরনের পণ্য দখল করে নিয়েছে সব ধরনের খদ্দেরের মন।
বাঁশ শিল্প বাংলাদেশের একটি প্রাচীন লোকশিল্প। এ-শিল্পের প্রধান উপকরণ হচ্ছে বাঁশ। সাধারণত গ্রামের লোকেরা এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। বাঁশের ব্যবহার বিবিধ। বাংলাদেশের লোকজীবনের খুব কম দিকই আছে যেখানে বাঁশের তৈরি সামগ্রী ব্যবহৃত হয় না। এই শিল্প কালক্রমে আমাদের লোকসংস্কৃতি ও কারুশিল্পের অন্যতম প্রধান উপকরণ হয়ে ওঠে। এ শিল্পের সাথে জড়িত আছে খাগড়াছড়ির অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।
তাদের মধ্যে একজন উদ্যোক্তা খাগড়াছড়ি অসীম কুমার দে। যিনি দীর্ঘ সময় বছর ধরে এ-শিল্পের সাথে জড়িত আছেন।
এ কাজের শুরুটা কেমন ছিলো জানতে চাইলে উদ্যোক্তা বলেন, মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেন তৈরি করেন ছোট একটি কারখানা যেখানে কাজ করছেন ৮ থেকে ৯ জন ছেলে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তৈরি করে আসছেন বাঁশ শিল্পের নানা ধরণের নান্দনিক পণ্য। এখন তার এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে আয় হয় তিন থেকে চার লাখ টাকা । এই কারখানায় বহু ধরণের পণ্য নিয়ে কাজ করছে। তার মধ্যে পেন হোল্ডার, টিস্যু বক্স, মগ, পানির বোতল, বাতিদানি, ফুলের টব ও শো-পিস অন্যতম।’’
ফেসবুকে ‘বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র’ নামে উদ্যোক্তার একটি পেজ আছে তার নামে। দেশের বিভিন্ন জেলায় অসীমে দে এর পণ্য বিক্রি হয়।খাগড়াছড়ি জেলার বাইরে থেকেও অর্ডার আসছে। ইতোমধ্যে তিনি বেশ কিছু পণ্য পাঠিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। শুরুতে তিনি একা কাজ করলেও এখন তিনি ৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।
এছাড়া পরিবারের সদস্যরাও তার কাজে নানাভাবে সহোযোগিতা করছেন। বর্তমানে প্রতিমাসে উদ্যোক্তা অসীমের আয় প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা।
ছোটবেলা থেকে দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে বড় হয়েছেন উদ্যোক্তা অসীম। কৈশোর বয়সেই ধরেছেন সংসারের হাল। দেশে তখন করোনাভাইরাস মহামারির তুমুল প্রকোপ চলছিল। করোনা কালীন সময় থেকেই বাঁশের জিনিসপত্র তৈরির কাজ করছেন তিনি। অসীমের স্বপ্ন, একদিন তার এই পণ্য দিয়ে বিশ্ব জয় করবেন।









