ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : মাগুরা-২ বিএনপিতে হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রতিযোগিতা, জামায়াতে একক, চমক হতে পারেন ড. আলী আফজাল
এম এ রইচ, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রুপিং জটিলতায় ভুগছে বিএনপি, মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন দুই গ্রুপের হেভিওয়েট নেতা এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক এমপি (মহিলা সংরক্ষিত) এ্যাড. নেওয়াজ হালিমা আরলি ও যুব নেতা ঢাকা দক্ষিণের যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। আর তাদের অনুসারীরা নেতার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচার করছেন মনোনয়নের সবুজ সংকেত আমার নেতার। দুই গ্রুপ একে অপরকে দোষারোপ করে প্রচার-প্রচারণায় ব্যাস্ত। জামায়াতের একক প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকের। অন্যদিকে প্রার্থী হতে পারেন কৃষি বিজ্ঞানী ড. আলী আফজালও বলে এলাকায় চাওড় হচ্ছে।
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর-শালিখা উপজেলা ও জেলা সদরের চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাগুরা-২ আসন। এই আসনটি এক সময় স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। আওয়ামী লীগের এমপি মোঃ আছাদুজ্জামান এর মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী কাজী সালিমুল হক কামাল বিপুল ভোটের ব্যবধানে মাগুরা-২ আসনটি দখল করে নেন। দীর্ঘদিন এ আসনটিতে রাজত্ব করেছে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একটু আলাদা। বিপ্লবের পরের বাংলাদেশে সেই সমীকরণ বদলে যেতে পারে। বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণ-যুবকরা প্রভাব ফেলতে পারেন ভোটের বাক্সে।
ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের দু:শাসন আর দলের নেতা কর্মীদের অপকর্মের কারণে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। ভোটও বিভক্ত হয়ে যাবে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থি-এ দুই ধারায়। সে ক্ষেত্রে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মূল লড়াইটাও হবে এ দুই ধারার প্রার্থীর মধ্যে, হতে পারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে মিছিল মিটিং নিয়ে মাঠে রয়েছে গণ-অধিকার পরিষদ, আর জাতীয় পার্টি রয়েছে দোটানায়, নিষিদ্ধ হবে! না কি নির্বাচন করতে পারবে? এ নিয়ে। অন্যদিকে এখনো সব এলাকায় কমিটি দিতে পারেনি তরুণ শিক্ষার্থীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরপরও ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের অনুসারীরা।
সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ফেব্রয়ারীতে হবে নির্বাচন। অন্তবর্তী সরকার নির্বাচনী এই সময়সীমা ঘোষণা করার পর যাত্রা শুরু করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন। তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশনও। ইতোমধ্যে সারাদেশের ন্যায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে মাগুরা-২ আসনের ভোটের মাঠেও। তবে বিএনপিতে রয়েছে গ্রুপিং জটিলতা, আর চলছে প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা। গ্রুপিং জটিলতায় এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির একাধিক প্রার্থী।
দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে বিএনপি’র রাজনীতি এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী এবং কাজী সালিমুল হক কামাল এই দুই ধারায় বিভক্ত। স্থানীয় নেতা কর্মীরাও এই গ্রুপের অনুসারী। ইতোমধ্যে তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের ছবি দিয়ে মনোনয়ন দৌড়ে একধাপ এগিয়ে রয়েছেন বা পেয়েগেছেন বলে প্রচার করছেন। আবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী পথসভা, মিছিল সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী হাওয়া গাঁয় লাগিয়ে হাটে-বাজারে, রাস্তার ধারে, গ্রামাঞ্চলের মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে বসে চুলছেড়া বিশ্লেষনে মেতে উঠছে সাধারণ ভোটাররা। তাদের কেউ কেউ বলছেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের দল বিএনপিই আসবে ক্ষমতায়। তাদের বিকল্প এই মুহুর্তে নেই। আবার কেউ বলছেন, বড় দুই দল দেখা হয়েছে। তাদের কাছে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি জাতির। এবার নতুন বাংলাদেশে নতুন কাউকে দেখতে চাচ্ছেন তারা। এসব বিষয় নিয়ে তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন একে অপরের সাথে। চা পান করে আবার বাড়ীও ফিরছেন এক সঙ্গে।
তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মাগুরা-২ আসনের ভোট বিভক্ত হবে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থি-এ দুই ধারায়। সেই ধারায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সংরক্ষিত সাবেক মহিলা এমপি এ্যাড. নেওয়াজ হালিমা আরলি এবং একজন মানবিক মানুষ হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগানো ব্যাক্তি, মহম্মদপুরের কৃতিসন্তান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম নয়ন। সিনিয়র নেতাদের টোপকে রবিউল ইসলাম নয়ন ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে পারেন বলে বিএনপির একাংশসহ জনসাধারণের প্রত্যাশা।
আবার ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। এতে পাল্টে যেতে পারে নির্বাচনের মাঠ। এসব বিষয় মাথায় রেখেই এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। একক প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতের মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক এম.বি বাকের। মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনী এলাকার কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়ত চলছে নির্বাচনী পথসভা।
অপরদিকে মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সামজিক ও মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানী ড. আলী আফজাল। কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজালও প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় চাওড় হচ্ছে। কোন দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে কি না এটা বলতে পারছেন না কেউ। তবে জামায়াতের প্রার্থীও হতে পারেন বলে লোকমুখে শুনা যাচ্ছে।









