তালাকের পর যা জানালেন আবু ত্বহা ও সাবিকুন নাহার

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:০৪ পিএম
তালাকের পর যা জানালেন আবু ত্বহা ও সাবিকুন নাহার

ডেস্ক রিপোর্ট:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচিত ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার প্রাক্তন স্ত্রী সাবিকুন নাহার-এর দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে শরিয়াহ মোতাবেক তাদের পারিবারিক বিষয়গুলোর মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে বলে উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই নিষ্পত্তির বিষয়টি প্রকাশ করেন আবু ত্বহা আদনান ও সাবিকুন নাহার।

আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, আলেমদের উপস্থিতিতে তিনি তার প্রাক্তন স্ত্রীকে ‘খুলা’ তালাকের প্রস্তাব দিলে সাবিকুন নাহার তা গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

নিষ্পত্তির বিস্তারিত:

১. বৈবাহিক সম্পর্ক:

মুরুব্বি ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে আবু ত্বহা আদনান খুলা তালাকের প্রস্তাব দেন এবং সাবিকুন নাহার তা গ্রহণ করেন। ফলে বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক অবশিষ্ট নেই।

২. মোহরআনা:

বিয়ের সম্পূর্ণ মোহরআনা পূর্বেই পরিশোধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে কোনো দেনাপাওনা বাকি নেই বলে উভয় পক্ষ নিশ্চিত করেছেন।

৩. স্বর্ণ ও অর্থের দাবি:

সাবিকুন নাহার জানান, তিনি মিরপুর, ঢাকাস্থ ‘Taw Haa Zin Nurain Islamic Center’-এর উন্নয়ন প্রকল্পে গত বছর প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ অর্থ প্রতিষ্ঠানকে ফেরতযোগ্য ধার হিসেবে প্রদান করেছিলেন। সর্বশেষ মজলিসে তিনি সেই অর্থ দাবি করেন।

ওলামায়ে মজলিস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেন, যা উভয় পক্ষই মেনে নিয়েছেন। আদনান জানিয়েছেন, এই অর্থ শরীয়াহ অনুযায়ী সাবিকুন নাহারের ন্যায্য হক এবং তা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।

৪. গুজব খণ্ডন:

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘৮ ভরি স্বর্ণের বিনিময়ে তালাক’ সংক্রান্ত গুজবকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আবু ত্বহা। তিনি বলেন, “এই গুজবের সঙ্গে আমার বা আমার প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সবাইকে গুজবে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ করছি।”

৫. সন্তানদের তত্ত্বাবধান:

ওলামায়ে মজলিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরীয়াহসম্মতভাবে সন্তানদের তত্ত্বাবধানের ফয়সালা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই সর্বসম্মতিক্রমে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

আবু ত্বহা আদনান তার পোস্টে বলেন,

> “বিষয়টি আলেমদের পরামর্শক্রমে পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। তাই অনুরোধ করছি, কেউ যেন এই বিষয়ে নতুন করে আলোচনা বা সমালোচনা না করেন।”

অন্যদিকে সাবিকুন নাহার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,

> “আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। সম্প্রতি আমার পারিবারিক ইস্যুটি ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সুন্দর ও উত্তমভাবে মীমাংসা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান,

> “দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কঠিন ও জটিল পরিস্থিতি থেকে সহজ ও শরীয়াহসম্মত প্রতিকার পেতে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এখন এর সুন্দর সমাধান হয়েছে।”

সাবিকুন নাহার প্রকাশ্যে আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন,

> “আমার দ্বারা অনিচ্ছায় বা ইচ্ছায় যত গুনাহ হয়েছে, তার জন্য আমি প্রকাশ্যে তওবা করছি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলব না এবং সবাইকেও আলোচনা-সমালোচনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

শেষে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান,

> “আমার পারিবারিক বিষয়ে সংবলিত সকল অডিও ও ভিডিও ক্লিপ দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে মুছে দিন। এটি দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণের জন্য প্রয়োজন।”

সাবিকুন নাহার তাদের কঠিন সময়ে পাশে থাকা ও সমালোচনা করা—সবাইয়ের জন্যই আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।