তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারে ‘পরিণত ও কৌশলী রাজনীতিকের পরিচয়’ দেখছেন ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০২ পিএম
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারে ‘পরিণত ও কৌশলী রাজনীতিকের পরিচয়’ দেখছেন ডা. জাহেদ উর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. জাহেদ উর রহমান মনে করেন, এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান একজন “পরিণত ও কৌশলী রাজনীতিক” হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, “তারেক রহমান বাংলাদেশের ডি-ফ্যাক্টো লিডার। সে কারণে তাঁকে আমাদের অবজার্ভ করতে হবে। আমি তাঁকে ক্রিটিক্যালি দেখার চেষ্টা করি। তাঁর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।”

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “তারেক রহমান বেশ কিছুদিন ধরে ভার্চুয়ালি দলীয় কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছেন এবং বেশ ম্যাচুয়েড আচরণ করছেন। তবে সেগুলো ইন্টারভিউ ছিল না, পাল্টা প্রশ্ন ছিল না। এবার তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্টারভিউ দিয়েছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্বতার নতুন দিক তুলে ধরেছে।”

‘পড়ার চেয়ে দেখা জরুরি’:

বিবিসি বাংলার ওই সাক্ষাৎকার দেখার পরামর্শ দিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন,

“পড়লে যতটা বোঝা যায়, দেখলে আরও বেশি বোঝা যায়। তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও এক্সপ্রেশন থেকে অনেক কিছু বোঝা যায়। কেন এত দিন মিডিয়ায় ইন্টারভিউ দেননি, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন—এটি ছিল চমৎকারভাবে সাজানো উত্তর।”

নির্বাচনের আগে দেশে ফেরার ইঙ্গিত:

তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেশে ফিরবেন—এই বক্তব্যকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক। তিনি বলেন,

“আমার ধারণা, তিনি হয়তো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কিছুদিন আগেই দেশে ফিরবেন। তাঁকে ঘিরে জনগণের মধ্যে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হবে, সেটিকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাবেন।”

প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্যকেও “স্মার্ট” প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।

“তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। এটি যথাযথ ও টেকনিক্যাল জবাব, কারণ তিনি নিজের মুখে তা বলতে পারেন না,” বলেন জাহেদ উর রহমান।

জুলাই আন্দোলন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে পরিমিত মন্তব্য:

জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড প্রশ্নে তারেক রহমানের উত্তরকেও প্রশংসা করেন তিনি।

“তিনি বলেছেন, এই আন্দোলন ছিল জনগণের আন্দোলন—কোনো দল বা ব্যক্তির নয়। এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সংগ্রাম। এই উত্তরটিতে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ফুটে উঠেছে।”

দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তারেক রহমান যে পরিমিত বক্তব্য দিয়েছেন, তা “যথাযথ” বলে মনে করেন জাহেদ।

“তিনি বলেছেন, নির্বাচন হলেই রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু নির্বাচিত সরকার এলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নত হবে। এটি বাস্তবসম্মত বক্তব্য।”

মনোনয়ন ও সংসদ সদস্যের ভূমিকা প্রসঙ্গে মতভেদ:

মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামত গুরুত্ব দেওয়ার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন,

“এটি অবশ্যই ভালো কথা যে এমপি প্রার্থী বাছাইয়ে জনগণের মতামতও দেখা হবে, কারণ এমপি দলের না—জনগণের প্রতিনিধি।”

তবে এমপিদের স্থানীয় সমস্যা দেখার প্রসঙ্গে তাঁর দ্বিমত প্রকাশ করেন।

“আমি মনে করি, স্থানীয় সমস্যা দেখবে স্থানীয় সরকার। এমপিদের কাজ হওয়া উচিত আইন প্রণয়ন,” বলেন তিনি।

চাঁদাবাজি ও পরিবারতন্ত্র প্রসঙ্গে পরামর্শ:

পরিবারতন্ত্র, চাঁদাবাজি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের মন্তব্যগুলোকে “যুক্তিযুক্ত” বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে তিনি প্রত্যাশা করেন,

“বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা উচিত।”

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশংসা:

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তারেক রহমানের প্রতিক্রিয়াকেও প্রশংসা করেন জাহেদ উর রহমান।

“তিনি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি একটি অগ্রযাত্রা। তবে আমরা চাইব, ভবিষ্যতের নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত হয়—এই বক্তব্য ছিল পরিণত ও দায়িত্বশীল।”

সারসংক্ষেপে বিশ্লেষকের মূল্যায়ন:

ডা. জাহেদ উর রহমানের মতে,

“এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান একজন সংযত, প্রস্তুত এবং কৌশলী রাজনীতিকের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। তিনি জানেন, কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে উত্তর দিতে হয়। এভাবেই তিনি আগামী নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছেন।”