ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়
ডেস্ক রিপোর্ট:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেত এলাকায় ছাপানো হয়েছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ডাকসু ভিপি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর সাবেক জিএস।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর ও বগুড়ার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পথে গাড়িতে বসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের প্রেস ব্রিফিং শোনার পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
ভিসির বক্তব্যে বিস্ময়:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে জানান, দুটি প্রেসকে ব্যালট ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা অনুমতি ছাড়াই নীলক্ষেতের একটি প্রেসে সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়। তবে এতে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে সাবেক ভিপি বলেন,
আমি ব্যবসায়িক কাজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি—যে কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে দিতে পারে না, কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগেই। তাহলে ডাকসুর ব্যালট পেপারের মতো গুরুতর কাজে কীভাবে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হলো? এটা খুব অদ্ভুত।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—এতদিন পর হঠাৎ করে জানানো হচ্ছে, আর ভিসি নিজে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন যে সব ঠিকঠাক হয়েছে। অথচ অভিযোগ তো আগে থেকেই ছিল, তখন প্রশাসন পাত্তা দেয়নি। এখন গণমাধ্যমে বিষয়টি আসার পর সাফাই গাওয়া হচ্ছে!
তদন্ত ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়:
সাবেক ভিপি মনে করেন, এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি।
তিনি বলেন,
আমরা চেয়েছিলাম একটি নিষ্কণ্টক, প্রশ্নবিদ্ধ নয় এমন ডাকসু নির্বাচন। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হয়নি। এখন তদন্ত ছাড়াই উপাচার্য বলছেন সব ঠিকঠাক ছিল। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি দাবি করেন,
ব্যালট ছাপানোর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান কেন সাব-কন্ট্রাক্ট দিল?
এটা কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়?
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের কাছে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা:
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রেস আছে। আমি চাকসুর জিএস থাকাকালীন জানতাম কীভাবে ছাপার কাজ হতো। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তো নিজস্ব প্রেস নেই। তারা সরকারি বা অনুমোদিত প্রেসেই কাজ করত। নীলক্ষেতে অবশ্য নানা ধরনের ছাপাখানা আছে—ভালো-মন্দ দুই ধরনেরই। তাই এখানে ছাপানো হলে বিতর্ক তৈরি হবেই।”
দাবি:
তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন,
এই ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের ও দেশবাসীকে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে। নতুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।









