জুলাই যোদ্ধাদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট দুঃখজনক: সারজিস আলম

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০১:২৪ এএম
জুলাই যোদ্ধাদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট দুঃখজনক: সারজিস আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পঞ্চগড়, টুনিরহাট (শুক্রবার বিকেল) — পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাটের শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘টুনির হাট ফুটবল গোল্ডকাপ’ চতুর্থ দিনের ম্যাচ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ সম্পর্কিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা-কন্যা ও শহীদ পরিবারের জন্য যথাযথ সম্মান বা আলাদা আসন এবং ব্যবস্থার অভাব ছিল এবং অনুষ্ঠানে তা রাজনৈতিক 'মিলনমেলা'র মতো সাজানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের কাছে সারজিস আলম উল্লেখ করেন, “এখানে তো প্রধান অতিথিদের কাতারে বা সামনের সারিতে জুলাই যোদ্ধা-শহীদ পরিবার তাঁদেরই থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম এটা রাজনৈতিক দলের একটা চুক্তির মতো—একধরণের মিলনমেলা বানানো হয়েছে। না এখানে জুলাই যোদ্ধা কিংবা শহীদ পরিবারের জন্য কোনো মর্যাদার আসন আছে, না কোনো ব্যবস্থা আছে।”

সামনে যেসব মানুষের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে—তাই সেখানে প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসন আলাদা পন্থা নিতে পারত; কিন্তু সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং রাবার বুলেট ব্যবহারের ঘটনাকে তিনি “অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেন। তার কথায়, “এই কালচারগুলো আমাদের যারা জুলাইয়ের যোদ্ধা ছিল, তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

সারজিস আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মন্তব্য করে বলেন, জুলাই সনদ বিষয়ে তাদের দায়বোধ শূন্যের কোটায় ছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘সেফ এক্সিট’ মানে দেশ ছেড়ে পালানো নয়; বরং অনেকটাই এমনভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে মর্মে ‘কোনোমতে’ সনদে স্বাক্ষর করে নির্বাচন আয়োজনের পথে যাওয়া যায়। এতে সংস্কার হবে কি না বা সনদের আইনি ভিত্তি থাকবে কি না—এসব স্পষ্ট নয়, শেষপর্যন্ত নির্বাচিত সরকারই বাস্তবায়ন করবে কি না তাও অনিশ্চিত থাকবে বলে তিনি দাবি করেছেন।

জুলাই সনদে এনসিপির আপত্তি প্রসঙ্গে সারজিস জানান যে বিএনপি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ছয়-সাতটি স্থানে নোট অব ডিসেন্ট রেখে রেখেছে, যা ওই সনদ প্রচলন হলে কীভাবে প্রযোজ্য হবে তা পরিষ্কার করা দরকার। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেছেন—কোনো দল ক্ষমতায় এসে নোট অব ডিসেন্ট থাকা সত্ত্বেও যদি সেগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নেই।

এনসিপি নেতা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে যারা ১৯৭৫ পরবর্তী অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে নেমে যোদ্ধা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে পরে বিভিন্ন কায়দায় মামলা-ভুক্ত করে আইনের আওতায় আনা হতে পারে। তাই এসব ঝুঁকি ও অস্পষ্টতা মেটানো না হলে এনসিপি ওই সনদে স্বাক্ষর বা অংশগ্রহণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের আহ্বায়ক আগেও বলেছিলেন—we have given many concessions since ৫ আগস্ট; কিন্তু ওই ঘোষণাপত্রটিকে আমরা কার্যকর দেখছি না—সেই কারণে আমরা অংশগ্রহণ করিনি।”

উল্লেখ্য, একই সময় পঞ্চগড়ের টুনিরহাট শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘টুনির হাট ফুটবল গোল্ডকাপ’ চতুর্থ দিনের ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গণের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। (ছবি: রাজিউর রহমান)

সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

সারজিস আলমের এসব বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে এসেছে—যখন “জুলাই সনদ” এবং তা নিয়েই নানা রাজনৈতিক মতবিরোধ ও আলোচনার সূত্রপাত রয়েছে। এনসিপি ও বিএনপি-সহ কয়েকটি দল ইতিমধ্যেই নোট অব ডিসেন্ট ও শর্তসহ সনদসংক্রান্ত তাদের আপত্তি প্রকাশ করেছে। সনদ, তার আইনি ভিত্তি, প্রয়োগযোগ্যতা এবং এরপরের রাজনৈতিক কৌশল—এসব বিষয় ভবিষ্যত রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।