গানের মানুষ আসিফ আকবর এবার বিসিবি নির্বাচনে

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৭ পিএম
গানের মানুষ আসিফ আকবর এবার বিসিবি নির্বাচনে

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে আমরা চিনি মেলোডি ও আধুনিক গানের রাজপুত্র হিসেবে। তবে গান ছাড়াও তার শিকড় রয়েছে ক্রিকেটে। নব্বই দশকের শুরুতে ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগে ইয়ং পেগাসাসের হয়ে খেলেছেন তিনি। কুমিল্লার মাঠে স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আসিফ; এমনকি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের আন্তঃকলেজ দলের অধিনায়কত্বও করেছেন।

এবার সেই খেলাধুলার প্রতি টান থেকেই আসিফ আকবর নির্বাচনের ময়দানে নামলেন—তবে রাজনৈতিক কোনো নির্বাচন নয়, তিনি অংশ নেবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনে। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে তিনি লড়বেন বিসিবির পরিচালক পদে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে টানা শো নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই শিল্পী নিউইয়র্ক থেকে জানিয়েছেন, ক্রিকেটের উন্নয়নই হবে তার মূল লক্ষ্য।

আসিফ আকবর বলেন,

“কুমিল্লার খেলাধুলার দারুণ ঐতিহ্য ছিল। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি—সব খেলায় আমাদের দাপট ছিল। অথচ এখন কুমিল্লায় ছয় বছর ধরে ক্রিকেট লিগই হচ্ছে না! বিসিবিতে সুযোগ পেলে প্রথম কাজ হবে কুমিল্লার ক্রিকেটকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা।”

তিনি জানান, জেলার অনেকে পরিচালক হলেও স্থানীয় ক্রিকেটে তেমন অবদান রাখেন না। কিন্তু তিনি নিজেকে ব্যতিক্রম প্রমাণ করতে চান। তার ভাষায়,

“কুমিল্লার তরুণরা মাঠমুখী হচ্ছে না। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা বাড়ছে। মাঠে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারলে তরুণদেরও সঠিক পথে রাখা যাবে। আমি চাই কুমিল্লা ও পুরো তরুণ সমাজের জন্য কাজ করতে।”

শুধু কুমিল্লাই নয়, সুযোগ পেলে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের ক্রিকেট উন্নয়নেও কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ প্রতিটি জেলায় বিপুল প্রতিভা রয়েছে উল্লেখ করে আসিফ বলেন, প্রতিটি জেলার ক্রিকেট নিয়েই নতুন কিছু করার পরিকল্পনা তার আছে।

আসিফ আকবরের বিসিবি কাউন্সিলর হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার এবং স্থানীয় সংগঠকদের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি হন।

আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বিসিবি নির্বাচন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও আসিফ আকবর ই-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন,

“এখানে আমার টানা ১৪টি শো আছে। গানই আমার পেশা, তাই ছাড়তে পারি না। তবে নির্বাচনে অংশ নেব এখান থেকেই। কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি, তারাও আমাকে সমর্থনের আশ্বাস দিচ্ছেন।”

সংগীতের মঞ্চ মাতানো এই শিল্পী এবার ক্রিকেট প্রশাসনের ময়দানে কেমন করেন—সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।