গাজায় ২ বছর ধরে ইসরাইলের তাণ্ডব: জাতিসংঘ বলছে ‘জাতিগত নিধন’
ডেস্ক রিপোর্ট:
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের অতর্কিত হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় তীব্র সামরিক আক্রমণ শুরু করে ইসরাইল। দুই বছর ধরে চলা এই হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ এই হামলাকে ‘জাতিগত নিধন’ বা জেনোসাইড হিসেবে অভিহিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং চাথাম হাউসের মিডল ইস্ট বিভাগের উপপরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, “দুই বছর ধরে গাজায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছে ইসরাইল। কিন্তু তারা সেখানে কী অর্জন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যদিও ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ নেটওয়ার্কগুলোর সক্ষমতা অনেকটাই কমে এসেছে, তবে তেল আবিব এখন অনেকটাই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিকভাবে বিচ্ছিন্ন।”
জাতিসংঘের প্রতিবেদন: স্পষ্ট ‘জাতিগত নিধন’
২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন বলেছে, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে গাজায় ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলেছে। বেসামরিক নাগরিকদের উপর ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হামলা গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এটি সরাসরি জাতিগত নিধনের পর্যায়ে পড়ে।
সানাম ভাকিল বলেন, “গাজায় গণহত্যার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করেছে ইসরাইল। এমন একটি জীবনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।”
কূটনৈতিক উদ্যোগ ও শান্তি প্রস্তাব
গাজায় চলমান সংকট নিরসনে সম্প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফোনে কথা বলেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। ৬ অক্টোবরের এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট পুতিন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ২০ দফা একটি শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এতে গাজা যুদ্ধের অবসান, হামাসের অস্ত্র পরিত্যাগ, ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষত, হামাসের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতি একটি ‘ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া’ এসেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। বিষয়টি বিশ্বে এক ধরনের আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রশংসা করেছেন এবং গাজা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দুই বছর ধরে গাজায় চলমান সংঘাত শুধু একটি অঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং এটি এখন বৈশ্বিক মানবিক সঙ্কটের রূপ নিয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা, জাতিগত নিধনের অভিযোগ, এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন মোড় ঘোরানোর এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ও নিরপেক্ষ ভূমিকা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের বাস্তব কোনো পথ পাওয়া কঠিন।









