কালিগঞ্জে জমি দখল, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম
কালিগঞ্জে জমি দখল, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
এস এম তাজুল হাসান সাদ, বিশেষ প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি দখল, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কাজী কবির আহম্মদ।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কালিগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, একই গ্রামের এক ব্যক্তি তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঠেকরা মৌজার ৩৪২ খতিয়ান ও ৪৫৬ দাগে মোট ৩৯ শতক জমি তিনি দলিলমূলে বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। কিন্তু মৃত কাজী আবু হানিফার পাঁচ পুত্র—শফিকুল ইসলাম, আহাদুল ইসলাম, শাহিন ওরফে শাকিল, শাহীলাল ও সুমন—জোরপূর্বক ওই জমির ২২ শতক দখলের চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে শাহিন ওরফে শাকিল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে হয়রানির মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কাজী কবির আহম্মদ বলেন, সম্প্রতি “এশিয়ান টিভি”-এর নাম ব্যবহার করে একটি ইউটিউব প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তাকে অবৈধ দখলদার হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও প্রশাসনিক ও আদালতের অনুসন্ধানে দেখা গেছে তার দলিল বৈধ এবং দখল সঠিক রয়েছে। বরং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই ভূমি অপরাধ আইনের ১৮৮ ধারায় চার্জশিট গঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ আকারে দাখিলের পর একাধিক শুনানি হয়। চেয়ারম্যানের রায়ে বলা হয়, “যদি ষোল আনা প্লটে জমি কম বা বেশি থাকে, তবে রেকর্ডধারী ব্যক্তি ভোগদখল করিবে।” পরবর্তীতে দুইজন আমিনের উপস্থিতিতে জমির মাপ নেওয়া হলে দেখা যায়, তার দখলে থাকা জমির পরিমাণ ঠিক ৩৯ শতক—যা দলিল অনুযায়ী বৈধ। কিন্তু প্রতিপক্ষ পরিবার রায় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছে এবং দখলচেষ্টার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শাহিন ওরফে শাকিল সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে ঘের দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানাবিধ অপরাধের অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী—শফিকুল ইসলাম প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে করে আর্থিক প্রতারণা করেছেন; আহাদুল ইসলাম প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে স্ত্রী-সন্তানসহ পালিয়ে আছেন; শাহীলাল স্ত্রী-সন্তান রেখে আত্মীয়কে বিয়ে করে সামাজিকভাবে বিতর্কিত হয়েছেন; আর সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং এলাকায় “গাঁজার সম্রাট” নামে পরিচিত।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী কবির আহম্মদ বলেন,
> “আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। জীবনের সঞ্চয়ে ক্রয় করা বৈধ সম্পত্তি এখন দখলবাজদের টার্গেট হয়েছে। তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তা শুধু আমার নয়—পুরো এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
তিনি প্রশাসনের কাছে তার ক্রয়কৃত, রেকর্ডভুক্ত ও দখলকৃত জমিতে যেন কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি “এশিয়ান টিভি” কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান—তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিন ওরফে শাকিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
> “জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই কবির আহম্মদ আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন।”