কালাইয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার উদ্যোগে ৫০০’র বেশি মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম
কালাইয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার উদ্যোগে ৫০০’র বেশি মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা

সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের পাঁচগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ও সেবামূলক চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠন "অন্ধেরী হিলফে বন জার্মানী"-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে দিনব্যাপী ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা ভিড় করতে থাকেন। চোখের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত শিশু,নারী ও বয়স্করা এই ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা,প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা গ্রহণ করেন।

চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন ৪ জন অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ একটি দক্ষ মেডিকেল টিম। তারা প্রতিটি রোগীকে সঠিকভাবে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও মানসম্মত চশমা সরবরাহ করেন। পুরো চিকিৎসা কার্যক্রমটি ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন বলেন, যেসব রোগীর ছানির সমস্যা পাওয়া গেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের জন্য বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ক্যাম্পের উদ্দেশ্য শুধু চোখের চিকিৎসা নয়, বরং সমাজের উপেক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা শুধু একদিনের কাজ করে থেমে যেতে চাই না, আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পঞ্চাশ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার বলেন, আমার দৃষ্টিশক্তি কয়েক বছর ধরে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল। আজকে এখানে এসে পরীক্ষা করালাম, ডাক্তার বললেন চোখে ছানি পড়েছে।তারা বলেছে, পরবর্তীতে অপারেশন করাবে। এটা আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অনেক বড় সাহায্য।

মাদাই গ্রামের জুবাইদা বেগম বলেন, চোখে অনেক দিন ধরে সমস্যা হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসার সামর্থ্য ছিল না। এখানে এসে ডাক্তার দেখালাম, ওষুধ আর চশমা দুইটাই পেয়েছি। এত কিছু ফ্রি পাওয়া যায়, ভাবতেই পারিনি।

 নন্দাইল গ্রামের কৃষক আলিমউদ্দিন বলেন,

আমি একজন দিনমজুর। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ায় কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। এখানে এসে চোখ পরীক্ষা করালাম, ডাক্তার বললেন চোখে মাইনর ইনফেকশন।ওষুধ আর ফ্রি চশমা পেয়েছি।এখন কিছুটা স্বস্তি লাগছে।

পুনট হাইস্কুলের ছাত্র শাহরিয়ার কবির জানান, বোর্ডে ঠিকমতো দেখতে পারতাম না বলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছিলাম। আজকে বিনামূল্যে চোখ চেক করিয়ে চশমা পেলাম।এতে করে আমার লেখাপড়ায় আগের চেয়ে মনোযোগ বাড়বে।

স্থানীয় সমাজসেবক মোক্তাদুল ইসলাম মুকুট বলেন,এই ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম সাধারণত বড় শহরে দেখা যায়। গ্রামে এসে এত জনসাধারণকে সেবা দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।

পাঁচগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস হোসেন বলেন,বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আয়োজন হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও আমাদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপকৃত হয়েছেন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম এলাকাবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করে।