আমি স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ালেও সহজে পাস করতাম: তামিম ইকবাল

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৩২ পিএম
আমি স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ালেও সহজে পাস করতাম: তামিম ইকবাল

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রভাবিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এবার ঘরোয়া ক্রিকেটও বর্জনের ঘোষণা দিল ঢাকার বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী ক্লাব। সোমবার (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন আরও গভীরতর রূপ নিয়েছে।

এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ঘরোয়া সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো। উপস্থিত ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা ওপেনার ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও, যিনি নিজেও বিসিবি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভেবেছিলেন। তবে নানা অনিয়ম ও ‘সরকারি হস্তক্ষেপ’-এর অভিযোগ তুলে শেষপর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন,

> “আমি এটা গ্যারান্টি দিয়ে বললাম, আমি স্বতন্ত্র হিসেবেও যদি দাঁড়াতাম, আমার পক্ষে কোনো টিম থাকুক বা না থাকুক, তারপরও আমি সহজে পাস করতাম। এটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু অনিয়মের মধ্যে থাকার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না।”

তিনি আরও বলেন,

> “আমার জন্য (নির্বাচনের) বাস ধরা না ধরা কোনো অপশন ছিল না। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি ফেয়ার ইলেকশন হওয়া।”

তামিমের বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচন ঘিরে ‘অলিখিত রুলস’ এবং অস্বচ্ছ সমঝোতার প্রসঙ্গও। তার মতে,

> “কিছু অলিখিত রুলস থাকে, আমি সেগুলো ভাঙতে চাই না। সমঝোতার সঙ্গে আমরা একমত ছিলাম না বলেই তো আমরা বের হয়ে এসেছি। উনারা যেটা সঠিক মনে করেছেন, সেটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আজকে আপনারা যে স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন, এই স্টেটমেন্টটাই রাখবেন। ভবিষ্যতে যদি কোনো কিছু হয়, স্টেটমেন্ট বদলে ফেলে আমাদের সঙ্গে এসে বসে যাবেন না।”

এই অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ঢাকার প্রভাবশালী একাধিক ক্লাব সংগঠক, যাদের মতে, বিসিবির নির্বাচন পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্লাব প্রতিনিধিদের অনেকেই দাবি করেন, মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রার্থিতা বাছাই, এমনকি কাউন্সিলর নির্বাচনেও অসাধু প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

এদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিসিবির বর্তমান প্রশাসন পর্যন্ত কেউ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসা দলাদলি, পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে প্রকৃত নেতৃত্ব বিকাশে বড় ধাক্কা খাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। তামিম ইকবালের মতো একজন জনপ্রিয়, অভিজ্ঞ এবং মাঠ ও মাঠের বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং এর পরিণতিতে ক্লাবগুলোর এমন বর্জন—দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় সংকেত বলে মনে করছেন অনেকে।

ঘরোয়া ক্রিকেট বর্জনের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে সামনে ঘরোয়া লিগসহ বিসিবির বিভিন্ন ক্রিকেট কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই সংকট থেকে উত্তরণে বিসিবি কী পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাব ও ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসে কি না।