আমির হামজা আসলেই বেয়াদবি ও মিথ্যাবাদীতে সেরা: তাহেরী

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪১ পিএম
আমির হামজা আসলেই বেয়াদবি ও মিথ্যাবাদীতে সেরা: তাহেরী

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াসউদ্দিন তাহেরী আবারও তোপের মুখে এনেছেন আরেক জনপ্রিয় বক্তা মুফতি আমির হামজাকে। তাহেরী বলেছেন, “আমির হামজা আসলেই বেয়াদবি ও মিথ্যাবাদীতে সেরা।”

বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাহেরী লেখেন

> “গতকাল দেখলাম আমিরে জামায়াত বক্তব্যের ব্যাপারে সতর্ক করলেন। একদিন পরই দেখলাম মিথ্যাবাদী আমির হামজা অবান্তর বেয়াদবিমূলক বক্তব্য দিল। সে আসলেই বেয়াদবিতে সেরা রে!”

এর আগে আরেক পোস্টে তিনি আমির হামজাকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন,

> “আল্লাহ্‌ হাবীব (দঃ) নাকি সাংবাদিক ছিলেন! নাউজুবিল্লাহ। মানসিক ভারসাম্যহীন বিকারগ্রস্ত মিথ্যাবাদী আমির হামজার বাণী অনুযায়ী তার সীট কোথায় বরাদ্দ করা যেতে পারে?”

বিতর্কের সূচনা:

বিতর্কের শুরু মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মুফতি আমির হামজার দেওয়া বক্তব্য ঘিরে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,> “আমরা যাকে নেতা হিসেবে মানি তিনি মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.)। ওনাকে আল্লাহ দুনিয়াতে যে নাম দিয়ে পাঠিয়েছিলেন তা হলো নবী। আর নবী শব্দের অর্থ সংবাদবাহক। যারা সংবাদ বহন করেন তাদের আমরা সাংবাদিক বলি। এ অর্থে নবীজি (সা.) সাংবাদিক ছিলেন।”

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে ইসলামের মূল আকীদার পরিপন্থী ও বেয়াদবিমূলক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন

ধর্মীয় অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া:

মুফতি তাহেরীর পোস্টের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই তাহেরীর সঙ্গে একমত পোষণ করে মন্তব্য করেছেন যে, “ধর্মীয় বক্তাদের মুখে এমন বেয়াদবি শোভা পায় না।”

অন্যদিকে কেউ কেউ এই ঘটনাকে ধর্মীয় বক্তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের নতুন রূপ হিসেবে দেখছেন

পটভূমি:

সম্প্রতি “আমিরে জামায়াতে ইসলামীর” পক্ষ থেকে দেশজুড়ে সক্রিয় ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্যে সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনার পরদিনই মুফতি আমির হামজার বিতর্কিত মন্তব্যটি ভাইরাল হয়, যা নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মত:

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে,

> “এই ঘটনাটি প্রমাণ করে কিছু বক্তার অসংযত ও অপরিকল্পিত বক্তব্যের কারণে ধর্মীয় সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ প্রচারের বদলে অনেকে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন।”