আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন, আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিও অংশ নিক: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:০০ পিএম
আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন, আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিও অংশ নিক: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ চান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, প্রতিপক্ষকে বঞ্চিত করে নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। এজন্য কেউ কেউ তাকে “ভারতের এজেন্ট” কিংবা “আওয়ামীর দালাল” বললেও, তিনি স্পষ্ট করেছেন— শেখ হাসিনার মতো প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতে না দেওয়ার মতো ভুল বিএনপি করবে না।


সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে ভারতের কলকাতার বাংলা দৈনিক এই সময়-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।


ফেব্রুয়ারিতেই হবে নির্বাচন:

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন,

“কোনো সংশয় নেই, কোনো অশান্তিও হবে না। মানুষ ভোটাধিকার ফেরত চাইছে, নির্বাচন চাইছে। উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট হবে।”


জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে:

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির অবস্থান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত অংশ নেবে, তবে তাদের ৩০ আসনের দাবি বিএনপি মেনে নেয়নি।

“আমরা উৎসাহ দেখাইনি, বরং অনেক কম প্রস্তাব দিয়েছি। জামায়াতকে আর মাথায় তুলব না।”

অন্যদিকে এনসিপিকে তিনি গুরুত্বহীন শক্তি আখ্যা দিয়ে বলেন,

“তাদের এখন আর কোনো জনসমর্থন নেই। আসলে এনসিপির একমাত্র লক্ষ্য বিএনপিকে সরকার গঠন করতে না দেওয়া।”


অন্তর্বর্তী সরকার ও ড. ইউনূস:

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিস্থিতি বদলেছে।

“আগে কিছু প্রশ্ন থাকলেও এখন তিনি আন্তরিকভাবে নির্বাচন চাচ্ছেন। সেনাপ্রধানও চান সেনারা ব্যারাকে ফিরুক। ইউনূস বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ভোট না হলে মার্চ থেকে তিনি থাকবেন না।”


আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ চাই বিএনপি:

আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা যাতে নির্বাচনে অংশ নেয়, সেটাই বিএনপির অবস্থান বলে জানিয়েছেন মহাসচিব।

“আমরা চাই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সবাই নির্বাচনে আসুক। শেখ হাসিনা যেমন প্রতিপক্ষকে ১৫ বছর ধরে ভোটে দাঁড়াতে দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। আমরা কেন সেই ভুল করব?”


ভারত প্রসঙ্গে অবস্থান:

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,

“ভারতের প্রভাব বাংলাদেশে থাকবেই। কিন্তু সমস্যা হলো— বাংলাদেশ মানেই শুধু আওয়ামী লীগ, এটা ভারত দীর্ঘদিন ধরে ভেবে এসেছে। বিএনপি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক দল। আমরা চাই ভারত সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক।”


তিনি আরও যোগ করেন,

“আমরা চাই দুই দেশের মধ্যে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ হোক। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হোক, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সিনেমা, থিয়েটার— সবকিছুতে উন্মুক্ত বিনিময় হোক।”


জামায়াত নিয়ে স্পষ্ট বার্তা:

দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচারণা বিষয়ে তিনি বলেন,

“জামায়াত কেবল নির্বাচনি শরিক ছিল, আদর্শগত শরিক নয়। আওয়ামী লীগ ভারতের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছে। এখন আমরা স্পষ্ট করছি, জামায়াতকে আর কোনো সুবিধা নিতে দেবো না।”


 সার্বিকভাবে মির্জা ফখরুলের এই সাক্ষাৎকারে মূল বার্তা হলো— বিএনপি একটি সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চায়, যেখানে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিসহ সব দল অংশ নেবে। একইসঙ্গে ভারতের প্রতি তিনি বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশকে কেবল আওয়ামী লীগের চশমা দিয়ে না দেখে, সকল রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।