আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের পর সরকারি ও রাজনৈতিক পদে থাকার সুযোগ বন্ধ

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৫ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের পর সরকারি ও রাজনৈতিক পদে থাকার সুযোগ বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে অভিযুক্তরা জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার বা সরকারি কোনো পদে থাকতে পারবেন না। এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ৬ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর সংশোধনের মাধ্যমে জারি করা হয়েছে।

এ অধ্যাদেশে আইনের ২০(সি) ধারা সংযোজন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিম্নলিখিত অবস্থানগুলোতে থাকা বা নির্বাচিত হওয়ার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন:

জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা সদস্য থাকা।

স্থানীয় সরকার সংস্থার সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত বা নিয়োগপ্রাপ্ত থাকা।

প্রজাতন্ত্রের কোনো সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত থাকা।

অন্য কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত থাকা।

তবে, অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যদি ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কোনো ব্যক্তি খালাস বা অব্যাহতি পান, তাহলে এই ধারা তার ওপর প্রযোজ্য হবে না।

এফএম চক্রের আওতায় ইতিমধ্যে ফরমাল চার্জ দাখিল হয়ে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছে। এছাড়া, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি বাধা হিসেবে কাজ করবে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

আসন্ন দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।