অভিযান শেষ হতেই আবার দখল: সিআরবিতে রেলওয়ের জমিতে অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
অভিযান শেষ হতেই আবার দখল: সিআরবিতে রেলওয়ের জমিতে অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য

‎মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

‎চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই আবারও দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং ও দখলদার চক্রের কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থায়ী ফল দিচ্ছে না।

‎চট্টগ্রামের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম চৌধুরীর স্বাক্ষরিত নির্দেশনার ভিত্তিতে আজ সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত সিআরবি ৭ রাস্তার মোড় ও গোয়ালপাড়া সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্ব দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করেন।

‎অভিযানের সময় রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও অস্থায়ী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, বিকাল হওয়ার আগেই আবারও পূর্বের স্থানে ফিরে আসে দখলদাররা। কিছু স্থানে পুনরায় দোকান বসানো এবং নির্মাণকাজ চালু করার চিত্রও চোখে পড়ে।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অবৈধ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেচাকেনা, ইয়াবা সেবন ও বিক্রি, মারামারি, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। তারা দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব স্থাপনা দখল ও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছে একটি প্রভাবশালী অসাধু গোষ্ঠী। তাদের ছত্রছায়ায়ই দখলদাররা বারবার উচ্ছেদের পরও পুনরায় জায়গা দখল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎এর আগে গত ১৩ জানুয়ারিও একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সে সময় ‘দেবের শ্বশুরবাড়ি’ নামে একটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে গেলে কিশোর গ্যাংয়ের বাধার মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্টদের। পরে বাধা উপেক্ষা করে অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়।

‎রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশে সিআরবি এলাকায় রেলওয়ের জমি উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদের পর দ্রুত পুনর্দখলের ঘটনায় কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয়দের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; দখলদার চক্র ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক আইনি ব্যবস্থা না নিলে সিআরবি এলাকার রেলওয়ের জমি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি অভিযানের পর স্থায়ী নজরদারি জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।