আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে কোনো দুঃশাসন ছিল না: শেখ হাসিনার আইনজীবী

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২৬ পিএম
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে কোনো দুঃশাসন ছিল না: শেখ হাসিনার আইনজীবী

স্টাফ রিপোর্টার:

আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে কোনো দুঃশাসন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও সুশাসনের যুগ ছিল শেখ হাসিনার সময়কাল; ভুলত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু তা কখনোই দুঃশাসন নয়।

সোমবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন দুপুর ১২টা থেকে জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

‘ভুলত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু দুঃশাসন নয়’

যুক্তিতর্কের এক পর্যায়ে আমির হোসেন বলেন,

> “আওয়ামী দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের ১৫ বছরের নানা বক্তব্য তুলে ধরেছেন প্রসিকিউশন। কিন্তু তারা কোনো সুশাসনের উদাহরণ দেননি। যদি বলতেন, আমি এক বাক্যে তা মেনে নিতাম। কারণ আওয়ামী লীগের সময় কোনো দুঃশাসন ছিল না।

তিনি আরও বলেন,

> “একটি পরিবারের কর্তার মতো রাষ্ট্রপ্রধানেরও ভুলত্রুটি হতে পারে। তবে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রকে ভালোভাবে পরিচালনা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। উন্নয়নের মহাসোপানে এগিয়ে যাওয়ার সময় ছিল এই ১৫ বছর।”

‘উন্নয়নের সময় ছিল শেখ হাসিনার সরকার’

আইনজীবী আমির হোসেন বলেন,

> “মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেলসহ দেশের সর্বত্র যে উন্নয়ন হয়েছে, তা অভাবনীয়। শেখ হাসিনার সরকার একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে সফল হয়েছেন। এসব যদি দুঃশাসন বলা হয়, তাহলে সুশাসন কাকে বলে আমি জানি না।”

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের মতো শব্দ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী একটি ‘পরিকল্পিত বয়ান’ চালাচ্ছে প্রসিকিউশন পক্ষ, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নে জবাব

এ সময় ট্রাইব্যুনালের প্যানেল আইনজীবীর উদ্দেশে প্রশ্ন রাখে—

> “বিচারবহির্ভূত হত্যা, খুন-গুম, বেআইনি আটক, মিথ্যা মামলা, অপহরণ—এই কাজগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?”

এর জবাবে আমির হোসেন বলেন,

> “এসব আমি অস্বীকার করি। প্রসিকিউশন পক্ষ এ কথা বলেছে, কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। রাষ্ট্র পরিচালনায় কখনো কখনো কঠোর হতে হয়। সেই কঠোরতার মধ্যেও কিছু ভুল হতে পারে, কিন্তু তা দুঃশাসন নয়।”

তিনি বলেন, বিশ্বে অনেক উন্নত দেশেও প্রশাসনিক ভুলত্রুটি ঘটে থাকে; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার স্বাভাবিক অংশ।

> “কোনটা ভুল, কোনটা সঠিক—সে বিচার আদালতই করবে। ঢালাও অভিযোগ দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে অপসারণের জন্যই এসব বলা হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি।

পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ

প্রথম দিনের মতো আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয় সোমবার।

ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।