শেহবাজকে ২১ সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কের চিঠি, ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
শেহবাজকে ২১ সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কের চিঠি, ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি

সূত্রঃ সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক 


পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরানের স্বাধীনভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের এটি দ্বিতীয় আবেদন। সর্বশেষ চিঠিতে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।


চিঠিতে সাবেক অধিনায়করা অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও আদালত-নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ড তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পায়নি। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশিত বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও তার বোন ড. উজমা খানকে রাখার কথা ছিল। একই সঙ্গে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।


সাবেক অধিনায়কদের ভাষ্য, ইমরান হাসপাতালে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ছিলেন। আদালতের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্রনিযুক্ত একটি দল তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করে। এরপর আদালতের নির্দেশিত বোর্ড তাদের পরীক্ষা শেষ করার আগেই তাকে আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।


চিঠিতে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে ইমরানের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করার সুযোগ দিতে হবে। এতে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরও যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর পাওয়া গেছে, সেটি যথাযথভাবে পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগ কোনো প্রশাসনিক বাধা বা বিলম্ব ছাড়াই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী ইমরানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।


ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের এমন উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময়ও ইমরানের চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তারা।


ইমরানের পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথমবারের মতো সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।


সর্বশেষ চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে তারা কোনো অবস্থান নিতে চান না। বরং ক্রিকেট মাঠে ইমরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধনের জায়গা থেকেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা। নিজেদের ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা বন্ধনের অংশীদার সাবেক সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।


চিঠিতে স্বাক্ষর করা সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে রয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালান বোর্ডার, সুনীল গাভাস্কার, ডেভিড গাওয়ার, ক্লাইভ লয়েড, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, স্টিভ ওয়াহ, জন রাইট, মাইকেল আথারটন, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল, মাইকেল ব্রিয়ারলি, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল গ্যাটিং, লি জার্মন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কিম হিউজ, নাসের হুসেইন, কপিল দেব ও দিলীপ ভেংসরকার।


২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একাধিক মামলায় কারাদণ্ড পান তিনি। দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় তাকে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিয়েসংক্রান্ত একটি মামলাতেও তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


ইমরানের বিচারপ্রক্রিয়া ও কারাগারে তার অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস তার বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


ইমরানের ছেলেদের অভিযোগ, তাকে কারাগারে একটি ‘ডেথ সেলে’ রাখা হয়েছে এবং সেখানে তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


এবার ২১ সাবেক অধিনায়কের সম্মিলিত চিঠির মূল বিষয় ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা, পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।