বাংলাদেশকে বাড়তি ডিজেল দেয়ার সঙ্গে ‘নিজ স্বার্থকে’ যুক্ত করতে পারে ভারত
সূত্রঃ ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জ্বালানির সংকটের কারণে ভারতের কাছে বাংলাদেশ বাড়তি ডিজেল চেয়েছে। তবে এখন দেশটি শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়েই ডিজেল নাও দিতে পারে। এরসঙ্গে তারা তাদের স্বার্থ জুড়ে দিতে পারে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, সাবেক আওয়ামী সরকারের আমলে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারত বেশ কিছু প্রকল্প চালাচ্ছিল। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এগুলো থমকে যায়। এখন ভারত বাংলাদেশকে শর্ত দিতে পারে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি হতে হবে। এরপর বাড়তি ডিজেল দেওয়া হবে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য হিন্দুকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনিশ্চয়তার মধ্যে নয়াদিল্লি তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে। এরমধ্যেই এ বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে।
জ্বালানির তীব্র সংকট থাকায় ভারতের কাছ থেকে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। যা ভারত এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। আর এ বিষয়টিই ভারতকে বাংলাদেশে তাদের থমকে যাওয়া প্রকল্পের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
দ্য হিন্দুকে ভারতের একটি সূত্র বলেছেন, “বাংলাদেশের বাড়তি ডিজেল চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন ভারতের সাথে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হতে পারে। বিশেষ করে, যে ভারতের অর্থায়নে চলা যেসব অবকাঠামো প্রকল্প বর্তমানে আটকে আছে, ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাবটির গতিও সম্ভবত সেই প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির সাথেই মিলিয়ে হিসেব করা হবে।”
ভারত লাইন অব ক্রেডিট বা ঋণ দিয়ে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ চালাচ্ছিল বাংলাদেশে। যা ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যারমধ্যে আছে অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাত— সড়ক, রেল, সেচ, জাহাজ চলাচল এবং বন্দর।
তবে এসব প্রকল্পের কাজ খুবই ধীরগতি। যেসব প্রকল্প বাংলাদেশে ভারত নিয়েছে তার ১৫টি শেষ ও আটটির কাজ চলমান রয়েছে। আর ১১টি প্রকল্প বাতিল হওয়ার দ্বারপ্রান্তে আছে।
একটি সূত্র বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভারতের এসব প্রকল্পও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
দেশটির আরেকটি সূত্র বলেছেন, “বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়ানোর প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখতে হচ্ছে বলেই ভারত এসব প্রকল্প নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে আগ্রহী।” আরেকজন বলেছেন, বাংলাদেশের বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্পখাত অবকাঠামোতে চীনের গভীর উপস্থিতি ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশে চীনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে ফেলতে পারে বলে তাদের শঙ্কা।
প্রথম সূত্রটি বলেছেন, "আমরা আশাবাদী, বাংলাদেশের নতুন সরকার গুছিয়ে নিয়ে কাজ শুরু করার পর দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারবে এবং পরিস্থিতি আরও গতিশীল হবে। তবে কোনো ছাড় তো আর একতরফা হতে পারে না।"
সূত্র: দ্য হিন্দু








