সরকারের ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
সরকারের ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় দেশে জনভোগান্তি বেড়েছে। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকারের ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও তুলেছেন তারা।


রোববার (২৩ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।


ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, সার সংকট ও জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, সরকার এসব সংকট স্বীকার না করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। সরকারের গত ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তারা।


জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তারা বলেন, বিরোধী দল সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকটে বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।


পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন ১১ দলের নেতারা। তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন নেতারা।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়ন করা হচ্ছে এবং শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের অভিযোগও করেন তারা।


নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।


তারা আরও বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে এসে গণভোটের রায় ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দল যথাযথ রাজনৈতিক জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।


লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে নেতারা জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা পর্বে রাজধানীতে জনসমাবেশ হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।


দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা মোকাবিলা করে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।


বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



এমকে/বিএম২৪