মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবার রাত জাগবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবার রাত জাগবে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ চলছে। এই সময়টাতে বাংলাদেশে রাত কখনো শুধু রাত থাকে না। ঘুমন্ত শহরের ভেতরেও তখন টেলিভিশনের আলো জ্বলে। চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে। যেদিকেই তাকাবেন কোথাও না কোথাও নীল-সাদা পতাকা দেখবেনই। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে না কিন্তু বিশ্বকাপ এলে আমরা যেন অন্য এক মানচিত্রে ঢুকে পড়ি। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার রঙে ভাগ হয়ে যায় পাড়া, পরিবার, বন্ধুমহল, অফিস, ক্যাম্পাস, চায়ের দোকান।


এই বিশ্বকাপে সেই পুরোনো আবেগ আবার ফিরছে। কারণ মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি।

আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে ক্যানসাস সিটিতে। ম্যাচের সময় ১৭ জুন ০১:০০ ইউটিসি। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা। অর্থাৎ এবার আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ দেখতে আমাদের রাতভর জেগে থাকতে হবে না। কিন্তু মেসির বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়। তার আগে রয়েছে অনেক প্রস্তুতি। নতুন জার্সি কেনা, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক, কিছু পুরনো পরিসংখ্যান ঘেঁটে নেওয়া, আগেভাগে সব কাজ সেরে রাখা। এসব মিলেই এক ধরনের রাতজাগা উৎসব। এই উৎসবের কেন্দ্রে একজন মানুষ। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

কয়েক দিনের মধ্যেই ৩৯ এ পা দেবেন মেসি। বলাই বাহুল্য, ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর। তবে মাঠে মেসির উপস্থিতি এখনো ফুটবলের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি। ২০০৬ সালে যে কিশোর মেসিকে বিশ্বকাপ প্রথম দেখেছিল ২০২৬ সালে সেই মানুষটি নামছেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। ফুটবলে আরো অনেক তারকা আছে। কিন্তু একজন ফুটবলারের সাথে ভক্তদের এমন দীর্ঘ আবেগের সম্পর্কের উদাহরণ খুব কম। বাংলাদেশের ভক্তদের সাথে মেসির সম্পর্কটা আরো প্রগাঢ়। সেটা কেবল ফুটবলীয় নয়- ব্যক্তিগতও বটে।|

আমাদের অনেকেই বেড়ে উঠেছি মেসিকে দেখে। রাতের পর রাত কেটেছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল তর্ক করে। প্রথম বেতন দিয়ে কিনেছি মেসির জার্সি। বাংলাদেশে মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, মেসি আমাদের জীবনের সাথে মিশে থাকা একটা নাম যার সাথে আমরা বড় হয়েছি।

২০১৪ সালের মারাকানার কান্না বাংলাদেশের অনেক ঘরে পৌঁছেছিল। সেদিন জার্মানির কাছে হেরে মেসি ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। সেই ছবি যেন এক অসম্পূর্ণ কবিতার মতো থেকে গিয়েছিল কোটি মানুষের স্মৃতিতে। তারপর এল ২০২২। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য ফাইনাল। ৩-৩, টাইব্রেকার, এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেভ, আর শেষে মেসির হাতে বিশ্বকাপ। যে মানুষটি প্রায় দুই দশক ধরে অপেক্ষা করছিলেন, তিনিই অবশেষে ট্রফি তুললেন। সেদিনও আমরা কেঁদেছি। এবার আনন্দে। বাংলাদেশে তখন রাত ছিল না, দিন ছিল না- ছিল শুধু নীল-সাদা আনন্দ।

কিন্তু এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আবেগ একটু আলাদা। এবার আর্জেন্টিনা শুধু বিশ্বকাপ খেলছে না তারা শিরোপা রক্ষার মিশনে নেমেছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুইবার পুরুষদের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনার সামনে তাই ইতিহাসের কঠিন দরজা। স্কালোনির দল ২০২২ সালের অনেক চেনা মুখ নিয়েই এসেছে। মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রোমেরো, দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজরা আছেন। আবার নতুন প্রজন্মের কয়েকজনও আছে যারা হয়তো মেসির পরের আর্জেন্টিনার গল্প লিখবে। তবে বাংলাদেশের চোখ থাকবে মেসিতে।