১৪ মাসে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও, নেপথ্যে ক্যাশ ইনচার্জ

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
১৪ মাসে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও, নেপথ্যে ক্যাশ ইনচার্জ

সূত্রঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি



চট্টগ্রাম নগরীর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদিঘী পূর্ব কর্পোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকেরই এক কর্মকর্তা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে ধাপে ধাপে এই অর্থ সরানো হয়েছে।


অভিযুক্ত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১)। পুলিশের দাবি, এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে হাটহাজারীতে ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে গরুর খামার গড়ে তোলার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। কৌশল হিসেবে ১ হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। এতে বাইরে থেকে বান্ডিল স্বাভাবিক দেখালেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকত।


ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল হোসেন নিজেই হিসাব মেলানোর সুযোগ পাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ঘাটতি ধরা পড়েনি বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ। এভাবে এক-দুই দিন নয়, প্রায় ১৪ মাস ধরে ধাপে ধাপে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে হিসাব করে ঘাটতির পরিমাণ ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়।


তদন্তে ব্যবসায়ী জাফরুল্লাহ তানভীরের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরানো অর্থ তার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হতো। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ফজদের আলী ফকির বাড়িতে ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। খামারটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তানভীর।


কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১৪ মাস ধরে ধাপে ধাপে টাকা সরানোর তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পর দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদালতে কামরুল হোসেন ও তানভীর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।


ঘটনার পর অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত এখনো চলছে। আত্মসাৎ করা অর্থের আরও কোনো ব্যবহার বা সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


এ ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, ভল্ট ব্যবস্থাপনা, হিসাব যাচাই, অভ্যন্তরীণ অডিট ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি কীভাবে শনাক্ত হয়নি, তদন্তে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মামলার তদন্ত শেষ হলে অর্থ আত্মসাতের পুরো প্রক্রিয়া, অর্থের গতিপথ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




এমকে/বিএম২৪