ভরা যৌবনে পদ্মা, পানিবন্দির শঙ্কায় চরাঞ্চলের মানুষ
সূত্রঃ সংগৃহীত
আবু কাওসার মাখন,বিশেষ প্রতিনিধি
বর্ষার শেষ সময়ে এসে নতুন রূপ নিয়েছে রাজশাহীর পদ্মা। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বাড়তে থাকায় পদ্মায় দেখা দিয়েছে ভরা যৌবনের ছোঁয়া। পানিতে টইটম্বুর নদী ছড়িয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে। ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও বিভিন্ন চরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩৯ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৬৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী পয়েন্টে পানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৭ মিটার।
পাউবো সূত্র আরও জানায়, রোববার (১০ আগস্ট) সকাল ৬টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৩ মিটার। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ২২ মিটারে। সোমবার সকাল ৬টায় পানি বেড়ে হয় ১৭ দশমিক ৩২ মিটার। সন্ধ্যা ৬টায় তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৩৯ মিটারে।
পানি বাড়ার কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীসংলগ্ন বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে। কোথাও কোথাও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে চরের কাঁচা সড়ক ও চলাচলের পথ ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রথমে নদীতীরবর্তী নিচু জমিতে পানি ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে বসতবাড়ির আশপাশের এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। অনেকেই গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কেউ কেউ উঁচু স্থানে তুলে রাখছেন।
এদিকে নদীর পানি বাড়ায় পদ্মার চরে জেগে ওঠা সবুজ ফসলের মাঠও পানির নিচে চলে যাচ্ছে। এতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। পানি আরও বাড়লে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে নদীভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন শুরু হলে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ কারণে নদীতীর ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পানি বাড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে পদ্মার টি-বাঁধ এলাকায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও পরিদর্শন বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে টি-বাঁধ এলাকার ব্যবসায়ীদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মার পানি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চর ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতেও নজরদারি রাখা হচ্ছে।
পদ্মার বুকজুড়ে এখন পানি আর স্রোতের খেলা। নদীর বদলে যাওয়া রূপে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, তেমনি চরাঞ্চলের মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা—পানি আর কত বাড়বে, আর কতটা ভোগান্তি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।
এমকে/বিএম২৪









