জাবিতে সুস্বরের আয়োজনে ‘বাউল বিসর্গ’ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
জাবিতে সুস্বরের আয়োজনে ‘বাউল বিসর্গ’ অনুষ্ঠিত

সূত্রঃ সংগৃহীত

জাবি প্রতিনিধি


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুস্বর’-এর আয়োজনে ‘পৃথিবীটা একদিন বাউলের হবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘বাউল বিসর্গ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে ‘সুস্বর’-এর শিল্পীদের পাশাপাশি পালাগান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত দেওয়ান ঘরানার লোকসংগীতশিল্পী খালেক দেওয়ান ও তাঁর দল। এছাড়া ভারতের রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও ‘দ্য ঠাকুর বয়েজ’-এর কণ্ঠশিল্পী দীপাঞ্জন পাল, বাংলাদেশের নজরুলসংগীতশিল্পী শুভ কর্মকার, পঞ্চকবি ও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হর্ষ মুখোপাধ্যায়, এসরাজশিল্পী সৌমিত রায় এবং তালযন্ত্রশিল্পী সহন দেওয়ান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


আয়োজন সম্পর্কে ‘সুস্বর’-এর সাধারণ সম্পাদক ইহাদ আহম্মেদ প্রত্যয় বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী বাউল সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত দর্শনকে সমকালীন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি লোকসংগীতের প্রতি তরুণদের আগ্রহ তৈরিতে অনুষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে।”


অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রভাষক নাহিদুল হাসান নাঈম। তিনি বলেন, “সুস্বর আয়োজিত এই বাউল অনুষ্ঠানটি সর্বাঙ্গীনভাবে সফল। এ ধরনের বাউল আয়োজন এ দেশের জনমানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতার ভাব কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। মানুষকে বড় করে দেখার শিক্ষা, জাত-পাত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়ার শিক্ষা বাউল সাধকেরা তাঁদের রচিত পদসমূহের মাধ্যমে দিয়ে গেছেন।”


তিনি আরও বলেন, “লালন ফকির, হাসন রাজা, জালাল খাঁর মতো মহাজনদের যুগ অতীত হয়ে যায়নি; তাঁরা জীবিত। যেদিন ‘মানুষের যুগ’ আসবে, সেদিন তাঁরা আরও জীবিত হয়ে উঠবেন। আজকের ‘বাউল বিসর্গ’-এর আসরের মতো প্রতিটি আয়োজন আমাদের সেই দিনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, “এসব আয়োজন আমার বেশ ভালো লেগেছে। শিক্ষার্থীরা কাজের মধ্য দিয়েই শেখার চেষ্টা করে। ফলে কিছু ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। তবুও তাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। কারণ, এসব চর্চার মধ্য দিয়েই তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটবে।”


বাউল চিন্তা ও অনুভূতির চর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত অনুধাবন ও চর্চার বিষয়। একেকজন দর্শক বা শ্রোতা এটিকে একেকভাবে গ্রহণ করবেন। তবে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও চেতনায় বাউল দর্শন ও সংগীতের একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।


অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লালন শাহের বিখ্যাত উক্তি ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে খুন, রাহাজানি, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের মতো যেসব ঘটনা ঘটছে, তার পেছনে যেমন রাষ্ট্রের দায় রয়েছে, তেমনি সমাজ ও আমাদেরও দায় রয়েছে। শুধু সরকার বা রাষ্ট্রের পক্ষে একা এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন মানবিক বোধের বিকাশ।


তিনি বলেন, বাউল দর্শন ও সংগীত সব ধরনের সংকীর্ণতা ও বৈষম্য ভুলিয়ে মানুষকে ভালোবাসতে শেখায় এবং মানবতার কথা বলে। তাই বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক।


এমকে/বিএম২৪