ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, গোয়ালন্দের সেই নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, গোয়ালন্দের সেই নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি

সূত্রঃ সংগৃহীত

 গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী), উপজেলা প্রতিনিধি


সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়েছে।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়।


এর আগে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন খবিরুল আলমকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি শোকজের লিখিত জবাব জেলা কার্যালয়ে জমা দেন। পরে তা প্রয়োজনীয় প্রতিবেদনসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়।


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান বাহরাইনপ্রবাসী ও উপজেলার উজানচরের বাসিন্দা রাসেল মোল্লা।


অভিযোগ রয়েছে, কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম তার কাছে ৫ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। পরে অনুরোধের পর ২ হাজার টাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। টাকা লেনদেনের সময় কৌশলে ওই প্রবাসী দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করা হলে তা ছড়িয়ে পড়ে।


রাসেল মোল্লা জানান, তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। অসুস্থতার কথা জানিয়ে অনুরোধ করলেও তাকে কয়েক দিন ঘোরানো হয়। পরে টাকা দেওয়ার পর তার এনআইডি করে দেওয়া হয়।


তার অভিযোগ, শুধু তিনি নন, ওই অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। সেখানে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। কম্পিউটার দোকান ও দালালদের মাধ্যমে নতুন এনআইডি তৈরি, নাম সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার নামে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ভুক্তভোগী জানান, জরুরি কাজে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় তাকেও ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড করাতে হয়েছে।


এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’


জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন জানান, ঘুস গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর খবিরুল আলমকে শোকজ করা হয়। তার জবাব পাওয়ার পর তা কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হলে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ঝিনাইদহে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এমকে/বিএম২৪