আসিফ মাহমুদের আয়ের উৎস কী?

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
আসিফ মাহমুদের আয়ের উৎস কী?

সূত্রঃ সংগৃহীত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক


সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার, দেশি-বিদেশি কোম্পানি গঠন ও বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে তাঁর দেশ-বিদেশের ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ ও সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।


দুদকের এই অনুসন্ধানের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আসিফ মাহমুদের আয়ের উৎস কী? তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর আয় কত এবং কীভাবে সেই আয় হয়?


আসিফ মাহমুদের সাম্প্রতিক এক বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর আয়ের প্রধান দুটি উৎস হলো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের টকশোতে অংশ নেওয়া।


সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনের একটি টকশোতে নিজের আয়-ব্যয়ের বিষয়ে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। সেখানে তিনি জানান, একটি কোম্পানিতে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মাসে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা বেতন পান।


এর বাইরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের টকশোতে অংশ নিয়েও তিনি আয় করেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, টকশোতে অংশ নিয়ে মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয়।


অর্থাৎ, তাঁর নিজের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী কনসালট্যান্সি ও টকশো থেকে মাসে মোট আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।


ভাড়ার বাসায় থাকেন, খরচ প্রায় ৫০ হাজার


একই সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ জানান, ঢাকায় তাঁর নিজস্ব স্থায়ী থাকার জায়গা নেই। তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই বাসাসহ মাসিক খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেন তিনি।


তবে তাঁর মোট আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কিংবা অন্য কোনো আয়ের উৎস রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাঁর ওই বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


দুদকের অনুসন্ধান কেন?


আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশি-বিদেশি কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাঁর এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশ-বিদেশের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।


দুদকের চিঠিতে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, নগদ অর্থ, বন্ড, শেয়ার, এফডিআর, ডিপিএস, ঋণ হিসাবসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়েছে।


পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে জমি কেনা, অর্থপাচার, শেল কোম্পানি গঠন এবং অন্যান্য লেনদেন ও সম্পদ অর্জনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।


দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদ ছাড়াও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের একজন সদস্যের আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়েছে।


অভিযোগ অস্বীকার আসিফ মাহমুদের


তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন আসিফ মাহমুদ। টকশোতে তিনি দাবি করেন, দুদকের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর বাস্তব আয়ের উৎসের সামঞ্জস্য রয়েছে এবং অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


অন্যদিকে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অর্থপাচারের অভিযোগ যেসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, প্রয়োজন হলে সেসব দেশেও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে।


ফলে বর্তমানে আসিফ মাহমুদের প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যে কনসালট্যান্সি ও টকশো থেকে আয়ের কথা উঠে এলেও, তাঁর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ ও দেশ-বিদেশের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মোট আয়ের পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।


এমকে/বিএম২৪