আন্তর্জাতিক মঞ্চে খাগড়াছড়ির মাসিনু মারমা, পেলেন ‘পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটি’ সম্মাননা

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আন্তর্জাতিক মঞ্চে খাগড়াছড়ির মাসিনু মারমা, পেলেন ‘পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটি’ সম্মাননা

ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি


খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মেয়ে মাসিনু মারমা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছেন। জুডো ও কুস্তিতে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘নাইনথ ওয়ার্ল্ড মিট ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’-এ তিনি পেয়েছেন ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটি’।


ব্যাংককের রয়্যাল রতনাকোসিন হোটেলে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। ওয়ার্ল্ড মিট টিম আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মার্শাল আর্ট, নৃত্য, সংগীত ও ফ্যাশন শোসহ বিভিন্ন বিভাগে ১০ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন।


মাসিনু মারমার ক্রীড়াযাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে জুডোর মাধ্যমে। পরে ২০১৭ সালে কুস্তিতে যুক্ত হন তিনি। দীর্ঘদিনের অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে জাতীয় পর্যায়ের একজন সফল খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশন ও বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের হয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।


জুডোতে মাসিনু ব্ল্যাক বেল্ট দ্বিতীয় ডানধারী। সম্প্রতি তৃতীয় ডানের পরীক্ষাও দিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত জুডোতে তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে ২০টি পদক। এর মধ্যে ১১টি স্বর্ণ, ৬টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জ। এসব পদকের ১৬টি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে, দুটি জাপান দূতাবাসের আয়োজনে এবং একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে অর্জন করেছেন তিনি। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে পঞ্চম স্থান অর্জনের কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর।


কুস্তিতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে মাসিনুর। এ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ১৪টি স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি।


খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি রেফারি হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন মাসিনু। ২০২৩ সালের বাংলাদেশ যুব গেমসে জুডো রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় গেমসেও নারী জুডো রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি কোচিং বিষয়েও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।


ক্রীড়াঙ্গনের বাইরেও রয়েছে তাঁর পেশাগত পরিচয়। তিনি বাংলাদেশ আনসারে সিপাহি পদে কর্মরত। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেশাগত দায়িত্ব ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি আনসার (সেবা) পদক।


পানছড়ির প্রত্যন্ত জনপদ থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মাননা অর্জন—মাসিনু মারমার এই সাফল্য দীর্ঘদিনের সাধনা, অধ্যবসায় ও ক্রীড়ানৈপুণ্যের স্বীকৃতি। তাঁর এ অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।