ভালোবেসে ধর্ম পরিবর্তন, ১০ বছরের সংসার শেষে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘরছাড়া

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ভালোবেসে ধর্ম পরিবর্তন, ১০ বছরের সংসার শেষে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘরছাড়া

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


ভালোবাসার মানুষের জন্য নিজের জন্মধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন। দুই পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে বিয়ে করেছিলেন মুসলিম পরিবারের এক যুবককে। স্বামীর ইচ্ছায় বিয়ের সাত দিন পর ধর্মও পরিবর্তন করেন ওই নারী। এরপর কেটে যায় ১০ বছর। সংসারে আসে দুই সন্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভালোবাসার মানুষই তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় নিজের জীবনের এমন কষ্টের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।


ওই নারীর দাবি, বিয়ের পর দীর্ঘ ১০ বছর তাঁরা সংসার করেছেন। কিন্তু একপর্যায়ে স্বামী তাঁকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। কারণ হিসেবে স্বামী তাঁর অফিসের এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে চার বছর ধরে সম্পর্ক থাকার কথা জানান বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।


একপর্যায়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে ওই সহকর্মীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন তাঁর স্বামী। এতে দুই সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েন ওই নারী। নিজস্ব কোনো আয় না থাকায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাঁকে।


পরিবারের সহযোগিতায় কিছুদিন চলার পর নিজেই চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে নিজের উপার্জনে দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনযাপন করছেন তিনি।


তবে জীবনের এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিলেও মনের গভীরে রয়ে গেছে তাঁর আক্ষেপ। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘যে মানুষটিকে ভালোবেসে নিজের জন্মধর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন করেছিলাম, সেই মানুষটিই একদিন আমাকে এভাবে ছেড়ে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি!’


ওই নারীর এই অভিজ্ঞতা ভালোবাসা, বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস, সততা এবং দায়িত্ববোধের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। ধর্ম পরিবর্তন কিংবা ভালোবাসার জন্য ত্যাগ স্বীকার করলেই যে একটি সম্পর্ক আজীবন টিকে থাকবে, তার নিশ্চয়তা নেই। একটি সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপর।


তবে একজন ব্যক্তির বিশ্বাসভঙ্গ বা সম্পর্কের ব্যর্থতার দায় কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নয়। এটি একান্তই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ ও দায়িত্ববোধের বিষয়।