অবশেষে গ্রেপ্তার তেরোখাদা আওয়ামী লীগের কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’র প্রধান ফরিদ মোল্লা

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
অবশেষে গ্রেপ্তার তেরোখাদা আওয়ামী লীগের কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’র প্রধান ফরিদ মোল্লা

সূত্রঃ সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি


খুলনার তেরোখাদা উপজেলার ৫ নম্বর তেরোখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান ওরফে ফরিদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’র প্রধান হিসেবে পরিচিত।


পুলিশ জানায়, সোনাডাঙ্গা থানার বউবাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার সময় ফরিদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে তেরোখাদা থানায় দুই ভাই হত্যার অভিযোগে একটি মামলা, ২০২৪ সালে ঢাকার শাহবাগ থানায় ও খুলনার দিঘলিয়া থানায় নাশকতার দুটি মামলা এবং ২০২৬ সালে এক স্কুলশিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফরিদ মোল্লার নেতৃত্বাধীন কথিত ‘মোল্লা বাহিনী’ তেরোখাদা উপজেলায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হয়রানি, মামলা ও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।


এ ছাড়া ভারতের একটি কোম্পানির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়দের কেউ কেউ করেছেন। জমি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার এবং তার কথিত চাহিদা অনুযায়ী জমি না দিলে হামলা-মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।


দুই ভাই হত্যার ঘটনায়ও ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এসব অভিযোগের কারণে তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছিলেন বলেও স্থানীয়দের ভাষ্য।


সম্প্রতি আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে আইনজীবীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও তার নাম আলোচনায় আসে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


এরই মধ্যে সোনাডাঙ্গার বউবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেরোখাদায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।


সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “ঘটনা সত্য। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিংরত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”


৫ নম্বর তেরোখাদা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাগর ইসলাম বলেন, “আমরা এলাকাবাসী এখন স্বস্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারব। কিছুদিন আগেও একজন স্কুলশিক্ষককে তার বাহিনীর সদস্যরা কুপিয়ে জখম করেছিল। এতদিনেও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।”


জাহিদুল ইসলাম নামে আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “আমার আপন ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করেছে এই বাহিনী। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”


ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের করা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থাও সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।



এমকে/বিএম২৪