যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, কানের পর্দা ছিদ্র ও রক্তক্ষরণ

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, কানের পর্দা ছিদ্র ও রক্তক্ষরণ

ফাইল ছবি

সাকিবুল ইসলাম, যবিপ্রবি প্রতিনিধি 


যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ছিদ্র হওয়ার পাশাপাশি কানে রক্তক্ষরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


ভুক্তভোগী জুয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত তানভীর একই শিক্ষাবর্ষের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী।


জুয়েলের অভিযোগ, শনিবার (৩ অক্টোবর) শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে গোসল করতে গেলে গোসলখানার ভেতরে বালতিতে কাপড় রাখা নিয়ে তানভীরের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তাকে গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গোসলখানার দরজায় জোরে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে নিজের কক্ষে যাওয়ার পরও তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান জুয়েল।


জুয়েল জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তার বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে তানভীরের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন। পরে একই শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কাব্যের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তারা হলের বাইরে একটি চায়ের দোকানের কাছে যান।


জুয়েলের ভাষ্য, সেখানে যাওয়ার পর পেছন থেকে তার বাম কানে জোরে থাপ্পড় মারা হয়। এতে তার কান বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাস্তায় তার বুকে লাথি মারা হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা তিনি মনে করতে পারছেন না বলে জানান।


পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। জুয়েলের দাবি, সেখানে প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল তার কানের পর্দা ছিদ্র হওয়ার পাশাপাশি কানের ভেতরে রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানান। পরে বিষয়টি শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্টকে অবহিত করা হয়।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই মুহূর্তে আমরা ভুক্তভোগীর চিকিৎসার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সে দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক—এটাই আমাদের অগ্রাধিকার।’


এ বিষয়ে শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মজনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে, বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া কাব্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেন।


অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিভাগের চেয়ারম্যান এএইচএম শহরিয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কেবল ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এখনো বিস্তারিত শুনিনি। বিস্তারিত জেনে আপনাকে জানাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’


তবে ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।