তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাই
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রংপুর বিভাগের তিস্তাবিধৌত নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধার মানুষ আজ কঠিন বিপর্যয়ের মুখে। নদীভাঙন, জমির ক্ষতি, কৃষিজমির বিলীন হওয়া এবং বাড়িঘর হারানোর ফলে লাখো মানুষ এখন চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রতিবছর হাজারো পরিবার ভিটেমাটি হারাচ্ছে আর তাদের জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়। তিস্তার এই মানবিক সংকটের জন্য আসন্ন তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি পদক্ষেপ হলেও, তা যেন আর শুধু আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের নদীভাঙন সমস্যাকে আরো বাড়িয়েছে। নদীভাঙন এবং তিস্তার পানি শাসন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি অবিরাম আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার মানুষ তাদের বসতভিটা হারাচ্ছে এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে কৃষকরা শুধু জমি হারাচ্ছেন না, তাদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এছাড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবার অভাব, বিশেষত শিশুদের জন্য এক অভিশাপ হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, স্বাস্থ্যসেবা বা পুষ্টির কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে তিস্তাপাড়ের এলাকার শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত। তিস্তা নদী এবং তার আশপাশের এলাকার মানুষের বিপদ এখন আর কোনো পর্যায়ে অবহেলার বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক সংকট। তাই, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হওয়া এবং নদীভাঙন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
লেখা:
মো. মাহমুদুল হাসান
ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ।
সদস্য ,বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম ঢাকা কলেজ।
০১৯০২০৪৭৪৬০








