এখন তো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার নাই তাহলে এখনো গুপ্ত নীতি অবলম্বন করে শিবিরের রাজনীতি করতে হবে কেন?
ছাত্রশিবির মূলত একটা গুপ্ত দল। যাদের প্রধান পলিসি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেশ ধরে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করা, এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন। তারা ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের আমলেও ছাত্রলীগের সাথে মিশে লীগের বেশ ধরে তাদের সাথে প্রোগ্রাম করতো,হলে থাকতো,নানাবিধ সুবিধা নিত। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যাল ও হলের মধ্যে যত প্রকার ঝামেলার সৃষ্টি হয় তার অধিকাংশই হয় এই গুপ্ত বাহিনীর গুজব,মিথ্যা প্রপাগান্ডার কারনে। তারা মূলত যে কোন ইস্যু কে পুঁজি করে পরিস্থিতিকে উষ্কে দেয় তারপরে সুযোগ বুঝে অনলাইন অফলাইন দুই জায়গায় ঝাপিয়ে পড়ে।
তাদের এমন সংকীর্ণ মানষিকতা ভবিষ্যৎ গনতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত করবে। তারা নিজেদেরকে অতি সুশীল এবং মেধাবী দাবি করে অথচ বিশ্লেষণ করলে প্রমানসহ দেখা যায় যে সারা বাংলাদেশে সমসাময়িক যত সমস্যা, মিথ্যা ও কুৎসিত ন্যারেটিভ তৈরী হয় তার সিংহভাগই শিবিরের নেতা কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত।
আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি এসব গুপ্ত পলিসির অবসান হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতি করা সবার গনতান্ত্রিক অধিকার। শিবিরের নেতা কর্মীদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি তারা নিজেদের সংগঠনের সমস্ত কার্যক্রম প্রকাশ্যে করুক, আমরা বাহবা দিবো।
আর যদি তারা মনে করে থাকে যে তারা বারংবার এসব জঘন্যরকমের ন্যারেটিভ তৈরি করে নিজেদের সংগঠনকে আগায়ে নিবে, তবে তাঁদের ধারনা ভূল। প্রতিটা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এসবে অতিষ্ট। সাধারন শিক্ষার্থীদের যে তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে এটা সম্বন্ধে এখন সবাই অবগত। তাদের এমন নোংরা পলিসির কারনে তারা সবার কাছে মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে,ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে।
জামায়াত ইসলামি শিবিরের মাদার সংগঠন,তারাও দেখি শিবিরের এসব ঘটনাকে উৎসাহ দেয়। মাঝে মধ্যে অবাক হই, যারা একটা সময় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস ঘাতকতা করার কারনে সবার কাছে অগ্রহনযোগ্য ছিলো এমনকি এখনো আছে তারা এখন অন্তত নিজেদের ভূল ত্রুটি সংশোধন করার একটা ভালো সুযোগ পেয়েছে কিন্তু তারা সুযোগ পেয়েও অনুতপ্ত হচ্ছেন না,বড় গলায় মিথ্যা বলে অগ্রসর হতে চাচ্ছেন। চাইলেই তো আর সম্ভব না, মানুষের মস্তিষ্ক থেকে তো ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব না।
এইতো কিছুদিন আগেও দেখলাম জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজা একটা ওয়াজ মাহফিলে বসে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, পরে আবার ক্ষমা চেয়েছেন।
এই হলো তাদের নৈতিক অবস্থা।
সুস্থ ইতিবাচক বাংলাদেশ বিনির্মান করতে চাইলে সবার সহযোগীতার প্রয়োজন হয়। জামাত শিবিরের কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা সুস্থ স্বাভাবিক বাংলাদেশ চান না,যেভাবেই হোক নিজেদের রাজত্ব কায়েম করার একটা খায়েশ তাদের অন্তরকে চেপে ধরেছে।
তাদের এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। দল মত নির্বিশেষে আমাদের একটাই পরিচয় আমরা বাঙালি। বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।
লেখা:
মোঃ মারুফ মর্তুজা
যুগ্ম আহবায়ক
সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল।









